খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে বজ্রপাতে আকাশ মিয়া (২৫) নামের এক যুবকের অকাল মৃত্যু ঘটে। উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে আকাশ মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য খোকন মিয়া এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন এবং বলেন, “এ ধরনের অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনা এলাকায় অনেকেই শোকাহত।”
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে আকাশ মিয়া কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। হঠাৎ বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে তিনি ধানক্ষেতের পাশে পড়েন। স্থানীয়রা তাঁকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান বলেন, “বজ্রপাতে মৃত্যুর লক্ষণ স্পষ্ট ছিল। হাসপাতালে আনার পর তার শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।”
দুর্গাপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। মৃতদেহের সুরতহাল তৈরি করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আকাশ মিয়া খুবই পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল ছিলেন। তিনি সম্প্রতি একটি বড় নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিলেন। বজ্রপাতে আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা শোকাহত। তারা বলছেন, “হঠাৎ এমন মৃত্যু সত্যিই আতঙ্কের।”
উপজেলা প্রশাসন বলেছে, বর্ষাকালীন সময়ে বজ্রপাতে দুর্ঘটনা এড়াতে মানুষ যেন মাঠে কাজ না করেন এবং উঁচু স্থানে গিয়ে আশ্রয় নেন। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বজ্রপাতের সময় ধাতব জিনিস থেকে দূরে থাকা, খোলা মাঠে না থাকা ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির সময় বাড়িতে নিরাপদ স্থানে থাকা জরুরি।
নিচের টেবিলে নিহতের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| নাম | বয়স | পিতার নাম | পেশা | স্থান | মৃত্যু তারিখ | কারণ |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আকাশ মিয়া | ২৫ | মজিবুর রহমান | রাজমিস্ত্রি | আলমপুর, চন্ডিগড় | ১৩ মার্চ ২০২৬ | বজ্রপাতে |
উপজেলার স্থানীয় মানুষদের মতে, বর্ষাকালীন বজ্রপাতের সময় সতর্ক না হওয়ায় প্রতিবারই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তাদেরকে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হঠাৎ বজ্রপাতের সময় সর্তকবার্তা প্রচারের জন্য অনুরোধ করেছেন।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, বজ্রপাত খুব দ্রুত ঘটে এবং তা অপ্রত্যাশিত। তাই মাঠে কাজ করা, উঁচু স্থানে থাকা বা খোলা মাঠে অবস্থান করা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি থাকে।
এই ঘটনা পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। আকাশ মিয়ার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসনও মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য সর্তকবার্তা প্রচার করছে।