সুনামগঞ্জের হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে দুর্নীতি রোধ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সরকারের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার চন্দ্র সোনার তাল হাওর পরিদর্শনকালে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রকল্পটি পানি মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তদারকিতে রয়েছে এবং দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, “বিগত সময়ে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা যেন না হয়, সেই জন্য আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। খাল খনন, নদী খনন এবং বাঁধ নির্মাণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কেউ যাতে দুর্নীতি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সরকার পাহারাদারের ভূমিকায় থাকবে। প্রতিটি কাজের মান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে। হাওরের কৃষক ও স্থানীয় জনসাধারণ যাতে সঠিক সুবিধা পান, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীও সরাসরি খোঁজ খবর রাখছেন।”
এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ কলিম উদ্দিন মিলন এবং সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার।
হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ প্রকল্পের প্রধান তথ্যসমূহ
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ |
| অবস্থান | চন্দ্র সোনার তাল হাওর, ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ |
| পরিদর্শনকারী | পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি |
| প্রধান লক্ষ্য | দুর্নীতি-অনিয়ম প্রতিরোধ, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা |
| সরকারি তদারকি | পানি মন্ত্রণালয়, সরাসরি নজরদারি |
| সংযুক্ত কর্মকর্তা | স্থানীয় সংসদ সদস্য, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী |
| মন্ত্রীর মন্তব্য | জিরো টলারেন্স নীতি, সকল কাজের মান এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা |
মন্ত্রী আরও জানান, হাওরের বাঁধ নির্মাণ শুধু ফসল রক্ষা নয়, বরং কৃষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্পে ব্যয় করা প্রতিটি টাকা ও উপকরণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করা হবে। কোন পর্যায়ে অনিয়ম বা দুর্নীতি ধরা পড়লে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জের হাওর এলাকা প্রতিবছর বন্যা ও অতিবৃষ্টি থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাই এই বাঁধ প্রকল্প কৃষকদের জন্য জীবনদায়ী ভূমিকা রাখে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রকল্প নির্মাণ নয়, বরং পরিবেশগত স্থায়িত্ব, সামাজিক প্রভাব এবং প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিদর্শনে সরাসরি অংশগ্রহণ করছেন। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “সরকার হাওরের প্রতিটি বাঁধ নির্মাণ ও খাল খননে নজরদারি চালাবে এবং দুর্নীতি-অনিয়মের সুযোগ দেবে না। জনগণ যাতে প্রকল্পের সুফল পায়, তার জন্য আমরা সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”
এই প্রকল্পটি সরকারের দূরদর্শী নীতি ও সতর্ক নজরদারির প্রতিফলন, যা হাওরের কৃষক ও এলাকার মানুষের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।