খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী ও গণহত্যা মামলার রায়কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বহুস্তর নিরাপত্তা বলয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন—কেউ যদি ককটেল নিক্ষেপ, আগুন বা সহিংসতা করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চায়, তাহলে প্রয়োজন হলে সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রায়কে ঘিরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য নাশকতার আশঙ্কায় সর্বত্র নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের সব গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ইউনিটকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও সতর্কতামূলকভাবে অনলাইনে ক্লাস চালাচ্ছে।
গত কয়েক দিনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন, সড়কে গাছ ফেলে অবরোধসহ নানা নাশকতার ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, গাজীপুর, কুষ্টিয়া, বগুড়া, ফেনী এবং সিলেটসহ একাধিক জেলায় একই ধরনের সহিংসতা দেখা গেছে।
ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সেনা সদর দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে কাজ করছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন—রায়কে ঘিরে সারাদেশে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, এবং একটি মহল পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে কয়েকটি সংগঠন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের “অগ্নিসন্ত্রাসের” বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। শাহবাগে ‘জনতার আদালতে’ শেখ হাসিনার প্রতীকী শাস্তি প্রদর্শন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কুমিল্লায় নাশকতার প্রস্তুতি ও ঝটিকা মিছিলে অংশ নেয়ার অভিযোগে ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সংগঠনের ৪৪ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। ঢাকায় গ্রেপ্তার হয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ১০ জন নেতাকর্মী।
ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—
গুরুত্বপূর্ণ সব প্রবেশপথে তল্লাশি চলছে,
টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে,
যেকোনো ধরনের নাশকতায় তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তাদের দাবি—নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।