খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৮ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের মানুষ কোরআন ও ইসলামি আইনের জন্য রক্ত দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম। শনিবার (২৮ জুন) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির মহাসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘পিআর (সংখ্যানুপাতিক) পদ্ধতির নির্বাচন মানা উচিত। জনগণ কোনো চাঁদাবাজ, খুনি, দখলদারকে দেশের ক্ষমতায় চায় না। বাংলাদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে কোরআন ও ইসলামি আইন বাস্তবায়নের জন্য। মঞ্চে যারা আছেন, তারা যদি মুনাফেকি না করেন তাহলে ক্ষমতায় যাবে ইসলাম। সব ইসলামি দল মিলে জাতীয় নির্বাচনে একটি বাক্স দিতে পারলে ইরানের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর থেকে একেকটা মিসাইল বের হবে।’
সংসদের উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাহলে আর কেউ স্বৈরাচার হতে পারবেনা। ইসলামপন্থিদের ঐক্যের বিষয়ে জন আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তন হয় নি।’
ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। কথিত স্বৈরাচারের বিচার করতে হবে। ৭২–এর সংবিধান প্রণয়নকারীদের কোনো ম্যানডেট ছিল না। বিদ্যমান সংবিধান অন্য দেশ থেকে কপি করা। মৌলিক সংস্কারের গড়িমসি করা হচ্ছে। দেশের বাইরে থেকে এখনও উসকানি দেওয়া হচ্ছে।’
সমাবেশ শেষে একটি ঘোষণাপত্রও দেয় ইসলামি আন্দোলন। এতে বলা হয়, ‘সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের সাথে “আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল নীতি” এ বিষয়টি অবশ্যই পুনঃস্থাপন করতে হবে। কারণ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের জন্য ইসলাম হলো রক্ষাকবচ। তার প্রতিফলন সংবিধানের মূলনীতিতে থাকতে হবে।’
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে এতে আরও বলা হয়, ‘জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বৈষম্যহীন শোষণ নিপীড়ন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাতীয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা করতে হবে।’
ঘোষণাপত্রে প্রয়োজনীয় মৌলিক রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অপরিহার্য। সেটা নিশ্চিত করার জন্য জনপ্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে। পতিত ফ্যাসিবাদের সহযোগী যারা এখনো জনপ্রশাসনে কাজ করছে তাদেরকে চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ করতে হবে। না হলে তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করেই যাবে।’
আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ‘বিদেশে পালাতক অপরাধীদের আটক করার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে। দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে সক্রিয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও খুনখারাবি রোধে প্রশাসনকে আরো কার্যকর ও অবিচল হতে হবে। ভারতের সাথে হওয়া সব চুক্তি জনসন্মুখে প্রকাশ করতে হবে এবং সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করতে হবে।’
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়ে এতে বলা হয়, ‘আগামীতেও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সকল স্থানীয় নির্বাচনের বিধান প্রণয়ন করতে হবে। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, ঋণখেলাপি ও সন্ত্রাসীদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে।’
জাতীয় নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়ে এতে বলা হয়, ‘সকল দলের জন্য সমতল পরিবেশ এবং সমান সুযোগ তৈরি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা ভিন্ন কোনো দেশের চাপে অতীতের মতো যেন-তেন একটি নির্বাচনের জন্যে তফশিল ঘোষণা করা হলে তা কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না।’
খবরওয়ালা/আরডি