খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
খবরওয়ালা ডেস্ক ॥ দেশে দুর্ভিক্ষ সম্প্রসারিত হচ্ছে : রিজভী, স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে বেদনাদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গতকাল রবিবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। রিজভী বলেন, পবিত্র রমজান প্রায় শেষ পর্যায়ে, আর দুই তিনদিন পর উদযাপিত হবে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। কিন্তু ডামি নির্বাচনের বাকশাল টু সরকারের ভয়াবহ দুঃশাসনে পড়ে এ পবিত্র রমজানেও নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছে সাধারণ মানুষ। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্রুৎ-পানি সংকট তো আছেই।
এছাড়া অবৈধ সরকারের লুটপাটের অর্থনীতির কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ ক্রমসম্প্রসারিত হচ্ছে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বাকস্বাধীনতা প্রয়োগের জন্য অনেক মানুষকে জুলুম ভোগ করতে হচ্ছে। সভা-সমাবেশ-মিছিল করার অধিকার আওয়ামী লীগ এখন এককভাবে ভোগ করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এরা কলুষিত করে ক্ষমতা দখলে রেখেছে। আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসের মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছে। জনগণের ওপর প্রভুত্বকামী জুলুমবাজ সরকার পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দেশব্যাপী হিংসার মন্ত্রণাদাতা ও শান্তির শত্রু। এরা গণতন্ত্রের মূল নীতিকে সমাধিস্থ করে এক সর্বগ্রাসী অত্যাচারী রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মনে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। বিশেষ করে মধ্যম ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এবারের ঈদ সবচেয়ে নিরানন্দ ও বেদনাদায়ক। ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় ১৬ বছরের শাসন আমলে বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের গুম, খুন, হামলা, গায়েবি মামলা জেল, জুলুম, ব্যাংক লুটপাট ও অর্থপাচার এবং দুঃশাসনের চিত্র তুলে ধরেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন,জবরদস্তিমূলক ক্ষমতা ধরে রেখে অবৈধ আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী গত প্রায় ১৬ বছরে ক্রমবর্ধমান স্বৈরশাসনের নানামুখী ফরম্যাট পরিবর্তনের মাধ্যমে দেড় লাখের বেশি হয়রানিমূলক মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানসহ প্রায় ৫০ লাখের অধিক নেতাকর্মীকে আসামি করেছে। রাজনৈতিক আচরণের রীতি ও শালীনতাকে উপেক্ষা করে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়েছে, এখনও তিনি মুক্ত নন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিচারের রায় ছিল ফরমায়েশি ও আক্রোশমূলক। তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত কেউই গায়েবি মামলা ও সরকারি নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে রেহাই পায়নি। দেশ যেন এখন কাঁটাতারের বেড়াঘেরা এক অবরুদ্ধ জনপদ।

বন্দি নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে ধরে রিজভী বলেন, এখনও কারাবন্দী রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, আসলাম চৌধুরি, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ২০১৮ সালে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন অপু,
স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুসাব্বির, ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির, স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, যশোরে জেলা বিএনপির সদস্য মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চসহ ৫১ জন, চিরিরবন্দর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকী নয়ন, সাভার উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনসহ হাজারও নেতাকর্মী।
খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দী নেতাকর্মীদের আসন্ন ঈদের আগে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ সকল বিএনপি নেতার মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি সাজা বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
আরও দেখুন: