খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে মাঘ ১৪৩২ | ৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) একদিনে দুইবার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশ। সবশেষ ভূমিকম্পটি রাত সাড়ে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে মিয়ানমারের মিনবু অঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৫.৯ মাত্রার জোরালোভাবে অনুভূত হয়। এতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে কম-বেশি ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে। এর আগে সকালেও দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল।
ভূমিকম্পটি যে ফল্টে সংঘটিত হয়েছে, সেটি অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুনরায় আফটারশক ভূমিকম্পের সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এই আশঙ্কার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, আমেরিকান ভূত্বাত্তিক অধিদপ্তর ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ভূমিকম্পটি প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।
মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) তথ্যানুসারে, ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের ২০ মিনিট পর মিয়ানমারে আরেকটি ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে ভোরে বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কলারোয়া এলাকায় ৪.১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়েছিল।
ভূমিকম্পের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় (বাংলাদেশ সময়) | ভূমিকম্পের কেন্দ্র | মাত্রা (Richter) | গভীরতা (কিমি) | প্রভাবিত এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| ৩ ফেব্রু, সকাল | কলারোয়া, সাতক্ষীরা | ৪.১ | ১০ | ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা |
| ৩ ফেব্রু, রাত ৯:৪০ | মিনবু, মিয়ানমার | ৫.৯ | ৬৩ | ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার |
| ৩ ফেব্রু, রাত ৯:৫১ | মিনবু, মিয়ানমার | ৫.৩ | ৬৫ | মিয়ানমার ও সীমান্তবর্তী এলাকা |
গবেষকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, এই অঞ্চলের ফল্ট অত্যন্ত সক্রিয়। গত ২০২৪ সালে একই ফল্টে ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছিল। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভূত্বাত্তিক বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সচেতন থাকতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা, উঁচু ভবন থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আফটারশক ভূমিকম্পও হতে পারে, তাই আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে সজাগ থাকা প্রয়োজন।