পুলক রাজ
প্রকাশ: শনিবার, ৯ আগস্ট ২০২৫
রাজধানী ঢাকার অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক, সবখানে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, দেশ কি কখনো শান্ত হবে? প্রতিদিনকার জীবনের অর্থনৈতিক টানাপোড়েন, নিরাপত্তাহীনতা, আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আঁধারে জর্জরিত সাধারণ মানুষ আজ বাঁচার যুদ্ধেই নেমেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির বাস্তবতায় নাগরিক জীবনের পরিধি দিনকে দিন সংকুচিত হচ্ছে। সরকার উন্নয়নের ভাষায় কথাবার্তা বললেও, মানুষের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কিছু।
রিকশাচালক রুহুল আমিন জানালেন, আগে দিনে ৮০০-১০০০ টাকা আয় হতো, এখন সেটা ৫০০ টাকাও ছাড়ায় না। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তি, বাজারে গেলেই অস্থির লাগে, মালিক ভাড়া বাড়ায়। সকাল-সন্ধ্যা প্যাডেল মেরে ক্লান্ত হই, কিন্তু ঘরে ভাত জোটে না। এই কি স্বাধীনতা?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা রহমান বলেন, চাকরির সুযোগ কম, ঘুষ ছাড়া সরকারি চাকরি পাওয়া যায় না। বেসরকারিতে চাকরি মানেই অনিশ্চয়তা আর অসম্মান। পড়ালেখার পরও যেন আমরা অবমূল্যায়িত।
হাতিরঝিলে চা-দোকানি জাকির হোসেনের বিক্রি কমে গেছে অর্ধেকে। আগে দিনে ২-৩ হাজার বিক্রি হতো, এখন ক্রেতা নেই। বিদ্যুৎ বিল বাড়ে, দোকান ভাড়াও। সরকার শুধু কর নেয়, কিন্তু আমাদের সমস্যা বোঝে না।
রামপুরার গৃহিণী হালিমা বেগম বলেন, রাতে শব্দ হলেই ভয় পাই। ছোট ছেলেমেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বুক কাঁপে। বাজারে যাই, দাম দেখে তালিকা কেটে ফিরি। শহরে থেকেও শান্তি নাই।
ঢাকা শহরের প্রতিটি কোণে আজ অনিশ্চয়তা, আতঙ্ক আর ক্ষোভ জমে উঠছে। কেউ চাইছে নিরাপদ চাকরি, কেউ শুধু এক রাত নিশ্চিন্ত ঘুম।
তবু একটাই প্রশ্ন সবার মুখে, এই দেশ কি শুধু বড়লোকদের জন্য? সাধারণ মানুষ কি কোনোদিন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারবে না?
এভাবেই ঢাকার প্রতিদিনের গল্প হয়ে উঠছে একটি গভীর বাস্তবতার দলিল। যেখানে স্বপ্ন নেই, আছে শুধু বেঁচে থাকার লড়াই।
খবরওয়ালা/এমএজেড