খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে কৃষক রফিক ইসলামকে হত্যার ঘটনা স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পিয়ারপুর ইউনিয়নের পচাভিটা গ্রামে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা গ্রামবাসীকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলেছে, কারণ অপরাধীরা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাটি কি পূর্বপরিকল্পিত টার্গেট কিলিং, নাকি লেনদেনজনিত বিরোধ—তা এখন তদন্তের বিষয়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে গ্রামটির একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন রফিক ইসলাম। গ্রামাঞ্চলে দিনের কাজ শেষে চায়ের দোকানই মানুষের আড্ডার কেন্দ্র। ঠিক সেই সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে চার থেকে পাঁচজন সশস্ত্র লোক সেখানে এসে দাঁড়ায়।
তাদের একজন কোনো কথা না বলে পিস্তল বের করে সরাসরি রফিক ইসলামের বুকে গুলি ছোড়ে। গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে রফিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।
চায়ের দোকানে থাকা কয়েকজন যুবক হামলাকারীরা পালানোর সময় তাদের ধাওয়া করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে রবজেল ফরাজি (৫২) এবং ইউসুফ হোসেন (৫৫) গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ। তিনি বলেন, “একটি লক্ষ্যভিত্তিক গুলিতেই রফিক ইসলাম নিহত হয়েছেন। এটি ছিনতাই বা আকস্মিক কোনো ঝামেলা নয়—এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, রফিক ইসলামের সঙ্গে কারও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধ থাকতে পারে। তবে পুলিশ সব দিক বিবেচনা করে তদন্ত করছে। গ্রামবাসীরা ধারণা করছে, স্থানীয় কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে পুরোনো বিরোধই হয়তো এই হত্যার কারণ।
ঘটনার পর পুরো গ্রামটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের প্রকাশ্য গুলির ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। ফলে স্থানীয়রা মনে করছেন, এলাকায় নতুন ধরনের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। সন্ধ্যার পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়, দোকানপাটও তুলনামূলক দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। আশপাশের সম্ভাব্য সিসিটিভি ক্যামেরা, মোটরসাইকেলের রুট, মোবাইল ট্র্যাকিং—সবগুলো ভিত্তি ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে এবং খুব দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে গ্রামবাসীর মধ্যে যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া প্রয়োজন বলে স্থানীয়রা মত দিয়েছেন।