খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় বিবাহে বাধা প্রদান এবং দাম্পত্য কলহের জেরে নিজ স্ত্রীর মুখে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবলীগ নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সোহাগ মিয়ার বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামে এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী গৃহবধূ সনি আক্তার (৩৫) গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে মোহনগঞ্জ উপজেলার বরকাশিয়া গ্রামের নুর আহম্মদের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য সোহাগ মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় সনি আক্তারের। সনি আক্তার স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এবং তিন সন্তানের জননী। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
সম্প্রতি সোহাগ মিয়া পরিবারের সদস্যদের অনুমতি ছাড়াই এক তরুণীকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিনের সুখের সংসারে কলহ নেমে আসে। সনি আক্তার স্বামীর এই অনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। কলহ চরম পর্যায়ে পৌঁছালে সনি মোহনগঞ্জ শহরে আলাদা একটি বাসায় বসবাস শুরু করেন এবং উভয়েই বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে উপনীত হন।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত সারণি:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| প্রধান অভিযুক্ত | আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সোহাগ মিয়া (৪০), সদস্য, উপজেলা যুবলীগ |
| ভুক্তভোগী | সনি আক্তার (৩৫), সহকারী শিক্ষক, প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় |
| ঘটনার স্থান | বরকাশিয়া গ্রাম, মোহনগঞ্জ, নেত্রকোনা |
| ঘটনার সময় | ২৮ জানুয়ারি, বুধবার বিকেল |
| আহতদের অবস্থা | সনি আক্তার (হাসপাতালে চিকিৎসাধীন) ও তাঁর ভাই গোলাম মোর্শেদ |
| থানায় অভিযোগ | ২৯ জানুয়ারি, ভুক্তভোগীর ভাই কর্তৃক লিখিত অভিযোগ দায়ের |
গত বুধবার সকালে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজে স্বাক্ষর করার জন্য মোহনগঞ্জ শহরের একটি বাসায় মিলিত হন স্বামী-স্ত্রী। প্রত্যক্ষদর্শী ও সনির ভাষ্যমতে, স্বাক্ষর করার সময় হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে সোহাগ সনির ওপর চড়াও হন। সোহাগ তাঁর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে টেনেহিঁচড়ে রিকশায় তুলে বরকাশিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং এক পর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করা হয়। সংবাদ পেয়ে সনির ছোট ভাই গোলাম মোর্শেদ বোনকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁকেও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন সোহাগ। পরবর্তীতে পুলিশের সহায়তায় সনি আক্তারকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতর সনি আক্তার জানান, “দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিবাদ করায় সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে আমার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। তালাকের কাগজে সই করার সময় সে আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। পুলিশ সময়মতো না পৌঁছালে হয়তো আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।”
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ৩০ জানুয়ারি দুপুরে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সোহাগ মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, এগুলো সাজানো এবং গত ৬ বছর ধরে সনির সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তবে স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অভিযুক্তের দাবির বিপক্ষে যাচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।