ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগের চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই চার ম্যাচেই নির্ধারিত হবে কোন দলগুলো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেবে এবং কারা বিদায় নেবে। প্রতিটি ম্যাচই ভিন্ন ভিন্ন সমীকরণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে কিছু দল এগিয়ে থাকলেও অন্যদের সামনে রয়েছে কঠিন প্রত্যাবর্তনের চ্যালেঞ্জ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ম্যানচেস্টারের ইতিহাদ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যানচেস্টার সিটি ও রিয়াল মাদ্রিদের লড়াই। প্রথম লেগে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়াল ৩-০ গোলের বড় জয় তুলে নিয়েছে। ফলে পেপ গার্দিওলার দলকে পরের রাউন্ডে উঠতে হলে অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জিততেই হবে। ইতিহাস বলছে, চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে প্রথম লেগে ৩ গোলের ব্যবধানে জয়ের পর কখনো বাদ পড়েনি রিয়াল মাদ্রিদ, যা তাদের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস।
লন্ডনে চেলসি ও পিএসজির ম্যাচেও উত্তেজনার কমতি নেই। প্রথম লেগে ৫-২ গোলের জয় পাওয়া বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। চেলসির সামনে সমীকরণ পরিষ্কার—তাদের অন্তত ৪ গোলের ব্যবধানে জিততে হবে। তবে ঘরের মাঠ স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ফরাসি ক্লাবগুলোর বিপক্ষে চেলসির সাম্প্রতিক রেকর্ড কিছুটা আশা জাগানিয়া।
অন্যদিকে, লিসবনে স্পোর্তিং সিপি ও নরওয়ের বোডো/গ্লিমটের ম্যাচে চমকের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথম লেগে ৩-০ গোলের জয় পাওয়া বোডো/গ্লিমট এখন এগিয়ে। স্পোর্তিংকে সরাসরি জিততে হলে অন্তত ৪ গোলের ব্যবধান প্রয়োজন। যদিও ইতিহাসে তারা একবার ৩ গোল পিছিয়ে থেকেও ঘুরে দাঁড়ানোর নজির গড়েছে।
সবচেয়ে সমানতালে লড়াই হচ্ছে আর্সেনাল ও বায়ার লেভারকুসেনের মধ্যে। প্রথম লেগ ১-১ ড্র হওয়ায় লন্ডনের ম্যাচটি কার্যত ‘ডু অর ডাই’। যে দল জিতবে, সেই দলই কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। ড্র হলে ম্যাচ গড়াবে অতিরিক্ত সময় ও প্রয়োজনে টাইব্রেকারে।
নিচে চার ম্যাচের সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| ম্যাচ | প্রথম লেগের ফল | দ্বিতীয় লেগে সমীকরণ |
|---|---|---|
| স্পোর্তিং vs বোডো/গ্লিমট | ০-৩ | স্পোর্তিংকে ৪ গোলের জয় দরকার |
| চেলসি vs পিএসজি | ২-৫ | চেলসির প্রয়োজন ৪ গোলের জয় |
| ম্যান সিটি vs রিয়াল মাদ্রিদ | ০-৩ | সিটির দরকার ৪ গোলের জয় |
| আর্সেনাল vs লেভারকুসেন | ১-১ | জয়ী দলই কোয়ার্টারে |
সব মিলিয়ে, আজকের রাতটি হতে যাচ্ছে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, কৌশলগত লড়াই এবং ইতিহাস গড়ার সম্ভাবনায় ভরপুর। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে এক রোমাঞ্চকর রাত।