খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নওগাঁ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীরা হাতলযুক্ত চেয়ারে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। তারা নির্ধারিত খাতায় কলম দিয়ে প্রশ্নের উত্তর লিখলেও তাদের প্রত্যেকের সামনে রয়েছে মোবাইল ফোন। সেই ফোন দেখে দেখে তারা উত্তরপত্রে লিখছে। গণমাধ্যমের কাছে আসা একাধিক ভিডিওতে ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ পর্বের শিক্ষার্থীদের এভাবে নকল করতে দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এভাবে নকল করতে সাহায্য করার পেছনে খোদ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোহবার হোসেন জড়িত। তার বিরুদ্ধে নকলের পাশাপাশি দুর্নীতিসহ আরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এসব অভিযোগ উল্লেখ করে বস্ত্র ও পাট অধিদপ্তরে একটি চিঠি জমা দিয়ে তার অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ
অধিদপ্তরে জমা দেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয়, চতুর্থ এবং ষষ্ঠ পর্বের ফরম পূরণের নির্ধারিত সময় পার হলে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ টাকা বিলম্ব ফি নেওয়ার কথা থাকলেও অধ্যক্ষ জোর করে ১,৩০০ টাকা আদায় করেছেন। কোনো শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করলে তিনি তাকে ছাত্রলীগ বানিয়ে বিস্ফোরক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এছাড়াও, ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য বোর্ড নির্ধারিত ফি ৩০০ টাকা হলেও তিনি ৮০০ টাকা নেন। অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের পুনঃসংযোগের জন্য ২০০ টাকা ফি নির্ধারিত থাকলেও তিনি অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। তিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মাইগ্রেশন করা শিক্ষার্থীদের ভুল বুঝিয়ে অনেকের ভর্তির ৫,৮০০ টাকাও ফেরত দেননি।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রধান হওয়া সত্ত্বেও তিনি রেজিস্ট্রেশন শাখার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রদের অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলির আবেদন নিয়ে গেলে তিনি অনুমতি দেন না, বরং অনুমতির শর্ত হিসেবে টাকা দাবি করেন। তিনি হোস্টেল সুপারের দায়িত্বও নিয়েছেন এবং সেখানেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন।
এ ছাড়াও, ব্যবহারিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা দাবি, এবং নির্দিষ্ট লাইব্রেরি (ভাই ভাই লাইব্রেরি) থেকে বই ও ব্যবহারিক খাতা না কিনলে ব্যবহারিকে নম্বর কম দেওয়ার হুমকি দেওয়ার মতো অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
অধ্যক্ষের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তব চিত্র
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সোহবার হোসেন বলেন, “এগুলো আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। আমি এখানে কিছু ভালো কাজ করেছি, তাই একটি চক্র শিক্ষার্থীদের নাম ব্যবহার করে এসব করছে।” মোবাইল দেখে পরীক্ষা দেওয়ার ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এগুলো আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা।”
তবে, ভিডিওগুলো চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসের, আর মোহাম্মদ সোহবার হোসেন গত বছর অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে বস্ত্র অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব, শিক্ষা) হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব প্রশ্ন শুনে আধাঘণ্টা পর ফোন করতে বলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফোন করা হলে তিনি আর তা ধরেননি।
খবরওয়ালা/টিএসএন