খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
নরসিংদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর অপহরণ করে হত্যার অভিযোগে তার সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তি ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (তারিখ) দুপুর আড়াইটার দিকে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আবদুল্লাহ-আল-ফারুক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি স্বীকার করেন যে তিনি নিজেই কিশোরীকে হত্যা করেছেন। ঘটনার সময় তিনি কিশোরীর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে ওই কিশোরী হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালানো হয়। একপর্যায়ে সন্দেহের ভিত্তিতে কিশোরীর সৎ বাবাকে আটক করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি অসংলগ্ন বক্তব্য দিতে থাকেন। পুলিশ তার বক্তব্যের অসঙ্গতি লক্ষ্য করে আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, ঘটনার আগে তিনি কিশোরীকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তাকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেন।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন এবং কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। তবে তদন্তকারীরা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুতই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর নিহত কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাশাপাশি ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | ধর্ষণের পর অপহরণ করে হত্যা |
| স্থান | নরসিংদী |
| ভুক্তভোগী | এক কিশোরী |
| অভিযুক্ত | কিশোরীর সৎ বাবা |
| হত্যার পদ্ধতি | ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ |
| আইনগত অবস্থা | ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তি |
পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের নৃশংস অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্তে কোনো ধরনের শৈথিল্য রাখা হবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আদালতে দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জানিয়েছে, অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।