Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে দুইটার দিকে এক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকা এক মুহূর্তে থমথমে হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে সেই সময়, যখন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক আন্দোলনের পরিবেশ ইতোমধ্যেই চরমে পৌঁছেছে।
ছায়ানট ভবন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম কেন্দ্র। এখান থেকে বহু নাটক, সঙ্গীত, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র একটি ভবন নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে দেশের যুব সমাজ ও শিল্পীদের জন্য অনুপ্রেরণার কেন্দ্র। তাই এর উপর হামলা কেবল সম্পত্তি নষ্টের ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত একদল মানুষ কাওরান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। অন্য এক দল ধানমন্ডির দিকে অগ্রসর হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে ছায়ানট ভবনের দিকে যায়। তারা ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে এবং ভবনের মূল্যবান জিনিসপত্র বাইরে নিয়ে এসে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ঘটনা শুনে দ্রুত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারীদের বিতাড়ন করে। বর্তমানে ধানমন্ডি এলাকা থমথমে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও কারও আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভবনের বহিরাংশ এবং অভ্যন্তরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের হামলা দেশের সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংহতির জন্য বড় ধরনের সংকেত। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখোমুখি হলে সাধারণ মানুষ ও শিল্পীরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হতে পারেন। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজন কার্যকরী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতা।