জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীকে কেন্দ্র করে নজরুলসংগীতভিত্তিক নতুন প্রতিভা অন্বেষণমূলক একটি বৃহৎ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘অগ্নিবীণায় নতুন প্রতিভা’ শীর্ষক এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা তরুণ নজরুলসংগীত শিল্পীদের খুঁজে বের করে জাতীয় মঞ্চে তুলে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে আগামী ২৪ মে থেকে। অংশগ্রহণের জন্য ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা আবেদন করতে পারবেন। দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ থেকে প্রতিযোগীদের বাছাই করা হবে। নিবন্ধন কার্যক্রম চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য সাংস্কৃতিক সংগঠনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় পাওয়া যাবে বলে জানানো হয়।
প্রাথমিক বাছাই শেষে প্রতিটি বিভাগ থেকে নির্বাচিত প্রতিযোগীদের নিয়ে একটি চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীতে। সেখানে মোট ২৪ জন প্রতিযোগী অংশ নেবেন। ধাপে ধাপে মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের মধ্য থেকে সেরা প্রতিভা নির্বাচন করা হবে।
প্রতিযোগিতার কাঠামো ও পুরস্কার
নিচে প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
বিষয়
বিবরণ
প্রতিযোগিতার নাম
অগ্নিবীণায় নতুন প্রতিভা
অংশগ্রহণের বয়সসীমা
১৫ থেকে ২৫ বছর
আবেদন সময়সীমা
২৪ মে থেকে ৩০ জুন
অংশগ্রহণের এলাকা
দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ
চূড়ান্ত প্রতিযোগী সংখ্যা
২৪ জন
চূড়ান্ত পর্বের স্থান
রাজধানী
প্রথম স্থান অধিকারীর পুরস্কার
নগদ অর্থ, সনদ ও সম্মাননা স্মারক
দ্বিতীয় স্থান অধিকারীর পুরস্কার
নগদ অর্থ, সনদ ও সম্মাননা স্মারক
তৃতীয় স্থান অধিকারীর পুরস্কার
নগদ অর্থ, সনদ ও সম্মাননা স্মারক
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শুধু প্রতিভা নির্বাচনই নয়, বরং নজরুলসংগীতের সঠিক চর্চা ও প্রসার ঘটানোই মূল লক্ষ্য। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা সম্ভাবনাময় কণ্ঠশিল্পীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিচারক মণ্ডলীতে দেশের খ্যাতনামা সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরা থাকবেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের একজন অভিজ্ঞ অধ্যাপক, নজরুলসংগীতের বিশিষ্ট শিল্পী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের একজন শিক্ষকসহ একাধিক প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী। নির্বাচন পর্বের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন একজন প্রবীণ সংগীতশিল্পী।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রয়াত এক সংগীতশিল্পীর স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর আয়োজক সংগঠনের শিল্পীরা নজরুলের একটি জনপ্রিয় সংগীত পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত দর্শক ও অতিথিদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম নজরুলসংগীতের প্রতি আরও আগ্রহী হবে এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে।