খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে শত্রুপক্ষের জন্য আরও বড় ধাক্কা ও নতুন ‘চমক’ অপেক্ষা করছে বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই থেকে তিন দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হলো।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতগুলো থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো যুদ্ধের প্রেক্ষাপট বদলে দিতে ভূমিকা রাখবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন কংগ্রেসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের সূত্র ধরে দাবি করেন, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীই ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। মার্কিন কংগ্রেসের ওই প্রতিবেদনে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে শত শত কোটি ডলার মূল্যের কয়েক ডজন বিমান হারানোর কথা স্বীকার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরাঘচি তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, পূর্বের সংঘাত থেকে অর্জিত শিক্ষা ও কৌশলগত জ্ঞানের আলোকে তেহরান এখন আরও শক্তিশালী। ট্রাম্প প্রশাসন যদি ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘নতুন ফ্রন্ট’ বা যুদ্ধের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করবে বলে তেহরানের সামরিক সূত্রগুলো থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ইরানের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুটা ভিন্ন সুর লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক এবং উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
তবে এই রাজনৈতিক বাদানুবাদ ও আলোচনার মাঝেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলে ইসরাইলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এর ফলে গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি হামলায় লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,০৪২ জনে।
পাশাপাশি, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মানবিক সহায়তা ও অধিকারকর্মীদের আন্তর্জাতিক নৌবহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র (Global Sumud Flotilla) ওপর ইসরাইলি নৌবাহিনীর প্রতিবন্ধকতা জারি রয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী এই ফ্লোটিলা থেকে আরও একটি নৌযান আটক করেছে। এই নতুন আটকের ফলে এখন পর্যন্ত ফ্লোটিলার মোট ৬১টি নৌযান ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হলো।
নিচে প্রদত্ত সারণির মাধ্যমে সংবাদের মূল তথ্য, ক্ষয়ক্ষতি ও চলমান সামরিক পরিস্থিতির একটি পরিসংখ্যানগত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের বিবরণ | সংশ্লিষ্ট পক্ষ/অঞ্চল | বর্তমান স্থিতি ও পরিসংখ্যান |
| আলটিমেটাম বা সময়সীমা | ডোনাল্ড ট্রাম্প (যুক্তরাষ্ট্র) | ইরানকে চুক্তির জন্য ২-৩ দিন সময় প্রদান |
| ইরানের সামরিক দাবি | ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র | প্রথমবার মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি |
| মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ | মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিবেদন | শত শত কোটি ডলার মূল্যের কয়েক ডজন বিমান বিনিষ্ট |
| লেবাননে হতাহতের সংখ্যা | দক্ষিণ লেবানন (ইসরাইলি হামলা) | সাম্প্রতিক হামলায় ৯ জনসহ ২ মার্চ থেকে মোট ৩,০৪২ জন নিহত |
| আটককৃত নৌযানের সংখ্যা | গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা | নতুন ১টিসহ এ পর্যন্ত মোট ৬১টি নৌযান ইসরাইল কর্তৃক আটক |
| কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি | ওয়াশিংটন ও তেহরান | আলোচনায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেডি ভ্যান্স |
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি, নতুন ফ্রন্ট খোলার হুমকি এবং লেবানন ও গাজা সীমান্তে সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে চরম উত্তেজনার মুখে দাঁড় করিয়েছে।