খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আজ সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ও অর্থনৈতিক মহলে নতুন অধ্যায় শুরু হলো, যখন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে ব্যাংকের সদর দপ্তরে পদার্পণ করেন। তাঁর আগমনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের তিনজন ডেপুটি গভর্নরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করে নেন।
গতকাল বুধবার সরকারের আদেশে পূর্ববর্তী গভর্নর আহসান এইচ মনসুররে নিয়োগ বাতিল করে মো. মোস্তাকুর রহমানকে ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন গভর্নর যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলার সময় জানান, “এসেছি; কাজ শুরু করি; তারপর কথা বলা যাবে।”
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন গভর্নর আজ দিনের প্রথম ভাগে তিন ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর পরে তিনি নিবাহী পরিচালকদের সঙ্গে আলাপ করবেন। দুপুর দেড়টায় তিনি সচিবালয়ে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন।
মোস্তাকুর রহমান ব্যয় ব্যবস্থাপনা বা কস্ট ম্যানেজমেন্টে বিশেষজ্ঞ এবং এফসিএমএ ডিগ্রিধারী। বিশেষ তা হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নরের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হলো। তাঁর নিয়োগ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে যে, অন্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে তিনি চার বছরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই আদেশ জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন গভর্নরের অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি ও সময়সূচি সংক্ষেপে নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| সময় | কর্মসূচি |
|---|---|
| সকাল ৮:৩০ | গুলশান থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে ব্যাংকের উদ্দেশ্যে প্রস্থান |
| সকাল ১০:৪০ | বাংলাদেশ ব্যাংকে পদার্পণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি |
| সকাল-দুপুর | ডেপুটি গভর্নর, বিএফআইইউ প্রধান ও অন্যান্য প্রধান কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক |
| দুপুর ১:৩০ | নিবাহী পরিচালকদের সঙ্গে বৈঠক |
| দুপুর ২:০০ | সচিবালয়ে সরকারি বৈঠক |
আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে মতিঝিলের উদ্দেশ্যে তিনি গুলশান থেকে নিজের গাড়িতে বের হন। গুলশানে তাঁর বাসভবনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানায়, “স্যার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে বাসা থেকে বের হয়েছেন এবং ব্যক্তিগত গাড়িতেই ব্যাংকে পৌঁছেছেন।”
নতুন গভর্নরের অভিষেক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন দিকনির্দেশনার সূচনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, একজন ব্যবসায়ী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও নীতি প্রণয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে।