নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে একজন নিহত হলো
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে অনিক (২০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত অনিক দড়িগাঁ এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রাজু, সুমন, কাশেম ও মোবারকসহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, নিলক্ষা ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে দুই পক্ষই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, এ সময় কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান করতে দেখা যায়, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। সংঘর্ষের কারণে হরিপুর ও দড়িগাঁ এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই নিরাপদ স্থানে সরে যান।
আহতদের মধ্যে অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় নেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিক মারা যান।
আহত ও নিহতদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
নাম
বয়স
অবস্থা
প্রাথমিক চিকিৎসা স্থান
পরবর্তী স্থান
মন্তব্য
অনিক
২০
নিহত
নরসিংদী সদর হাসপাতাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
গুলিবিদ্ধ
রাজু
অজ্ঞাত
গুরুতর আহত
নরসিংদী সদর হাসপাতাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
গুলিবিদ্ধ
মোবারক
অজ্ঞাত
গুরুতর আহত
নরসিংদী সদর হাসপাতাল
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
গুলিবিদ্ধ
সুমন
অজ্ঞাত
আহত
স্থানীয় তথ্য
—
সংঘর্ষে আহত
কাশেম
অজ্ঞাত
আহত
স্থানীয় তথ্য
—
সংঘর্ষে আহত
অন্যান্য
—
আহত
—
—
মোট অন্তত ১০ জন আহত
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, র্যাব এবং উপজেলা প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনার পর থেকে নিলক্ষা ইউনিয়ন এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো সংঘর্ষ বা সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।