খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নরসিংদীর মাধবদীতে এক কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মৃত কিশোরীর মা বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রাতেই মামলার এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি শর্ষেখেত থেকে কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরী পরিবারসহ ভাড়া বাসায় থাকতেন; তার বাবা ও ভাই স্থানীয় একটি টেক্সটাইল মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। পরিবারটির মূল নিবাস বরিশাল।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
| নাম | বয়স | পদবী / পরিচয় |
|---|---|---|
| আহম্মদ আলী দেওয়ান | ৬৫ | সাবেক ৯ নং ওয়ার্ড সদস্য, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি |
| ইমরান দেওয়ান | ৩২ | আহম্মদ আলীর ছেলে |
| মো. এবাদুল্লাহ | ৩৫ | স্থানীয় |
| আইয়ুব আলী | ৩০ | স্থানীয় |
| মো. গাফফার | ৩৭ | স্থানীয় |
মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে “বখাটে” হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন যুবক কিশোরীকে অপহরণ ও ধর্ষণ করে। বিচারের জন্য পরিবার ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে গেলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে অপরাধীরা ক্ষুব্ধ হয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
বুধবার রাতে কিশোরীকে খালার বাড়িতে পাঠাতে যাওয়ার পথে তার বাবা নজরে এলে নূরা ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে অপহরণ করে। রাতে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান মেলেনি। পরে বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা শর্ষেখেতে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখে মাধবদী থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
পরিবারের অভিযোগ, আহম্মদ আলী দেওয়ান অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং কোনো বিচার না করে ঘটনা ঢেকে দিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবারের উপর গ্রাম ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল। বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে ওঠে, যা কিশোরীর হত্যার মূল কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির (খোকন) ফেসবুকে লেখেন, “এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সকল অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। একজনকেও ছাড় দেওয়া হবে না।”
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত পাঁচজনের বাইরে প্রধান আসামি নূরাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। দ্রুতই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।