খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
নরসিংদীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় গত ১০ দিনে জেলার তিনটি উপজেলায় সাতটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চলছে অস্ত্রের মহড়া, ছিনতাই, সাংবাদিকের ওপর হামলা এবং প্রকাশ্যে গোলাগুলি। অথচ এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতা প্রায় অদৃশ্য। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে, অপরাধীদের কাছে যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে জীবন।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নারীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
শুক্রবার দুপুরে সদর উপজেলার আলোকবালীতে ফেরদৌসি আক্তার (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধুরী ও বহিষ্কৃত সদস্য সচিব কাইয়ুম মিয়ার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ দ্বন্দ্বের জের ধরেই জুমার নামাজ চলাকালে কাইয়ুম গ্রুপের হামলায় ফেরদৌসি নিহত হন। তিনি ছিলেন শাহ আলম গ্রুপের সমর্থক রয়েস আলীর স্ত্রী। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে বৃদ্ধকে গুলি করে হত্যা
এক দিন আগেই, বৃহস্পতিবার ভোরে একই ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে গুলিতে নিহত হন মো. ইদন মিয়া (৬০)। আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান। ঘটনায় আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মধ্যে মোস্তাকিম (৩০) ও আবুল হোসেনকে (৬০) ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ৫ আগস্টের পর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপির দুটি গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। বহিষ্কৃত নেতা আবদুল কাইয়ুমকে ঘিরেই এ সহিংসতা।
একই রাতে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন
বৃহস্পতিবার রাতে রায়পুরার পলাশতলী গ্রামে পারিবারিক কলহে স্বামী মানিক মিয়ার ছুরিকাঘাতে স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩০) খুন হন। ঘটনার সময় শিউলিকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘাতক স্বামী মানিক মিয়াকে পুলিশ আটক করেছে।
রবিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ব্যবসায়ী খুন
রায়পুরার জঙ্গি শিবপুর এলাকায় মানিক মিয়া নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন তিনি। রাত ১টার দিকে স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
১০ সেপ্টেম্বর দুই ভাই খুন
শিবপুরের বৈলাব গ্রামে পানি নিষ্কাশন নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা মামুন এবং তার দুই ছেলে দিদার ও বিদ্যুৎ তাদের চাচাতো ভাই সোহাগ (৪০) ও রানাকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে। রানা ঘটনাস্থলে মারা যান, সোহাগকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।
৮ সেপ্টেম্বর কৃষক খুন, এলাকা পুরুষশূন্য
রায়পুরার চরমধুয়া ইউনিয়নের সমীবাদ গ্রামে জাকির মিয়া ও খোকা আলমের মধ্যে বিরোধ থেকে জাকিরের অনুসারীরা অতর্কিত হামলা চালায়। গুলিতে নিহত হন কৃষক দুলাল মিয়া (৪৫), আহত হন কিশোর নাহিম (১৪)। হামলায় অন্তত ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়, পুরুষরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের জেলা সম্পাদক হলধর দাস বলেন, ‘৫ আগস্টের পর পুলিশের মনোবল দুর্বল হয়েছে, অপরাধ বেড়েছে। এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে মানুষ আইন নিজের হাতে তুলে নেবে।’
নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, বেশিরভাগ হত্যাকাণ্ড পারিবারিক। প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে, মামলা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বসে নেই, কাজ করছি।
খবরওয়ালা/এমইউ