খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ ও চানখাঁরপুল এলাকায় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি এবং ছাত্রলীগ নেতা মো. আসিফ আহমেদ সৈকত ও আব্দুল আল মামুনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর এই নির্দেশ প্রদান করেন।
ঘটনার শুরু হয় গত শনিবার বেলা তিনটার দিকে। রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় সাউন্ড বক্সে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মসংস্থান সম্পাদক মো. আসিফ আহমেদ সৈকতকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। এই আটকের প্রতিবাদে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নিয়ে পুনরায় ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন।
প্রতিবাদকারীরা একটি রিকশায় মাইক বেঁধে ভাষণ প্রচার শুরু করলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের, মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি দল তাতে বাধা প্রদান করেন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ইমি ও মামুনকে ধরে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে যে, থানার ভেতরেই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয় এবং আজ তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আশাদুল ইসলাম গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আসামিরা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিস্তারিত পরিচয় ও মামলার তথ্য
| নাম | প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পদবি | আটকের স্থান |
| শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি | সাবেক ভিপি, শামসুন্নাহার হল সংসদ (ডাকসু) | শাহবাগ থানা এলাকা |
| মো. আসিফ আহমেদ সৈকত | কর্মসংস্থান সম্পাদক, শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগ | চানখাঁরপুল এলাকা |
| আব্দুল আল মামুন | সহ-সম্পাদক, জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ | শাহবাগ থানা এলাকা |
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাহবাগ থানার বিপরীত পাশে জাতীয় জাদুঘরের ১ নম্বর গেটের সামনে আব্দুল আল মামুন ও শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একত্রিত হন। সেই সময় শাহবাগ থানা মসজিদে তারাবিহর নামাজ চলছিল। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা মসজিদের দিকে মুখ করে লাউড স্পিকারে উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিলেন, যা শান্তিশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ।
এজহারে আরও দাবি করা হয়েছে, আসামিরা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছেন এবং থানা হেফাজতে থাকা আসিফ আহমেদ সৈকতকে ছিনিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এছাড়া তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম সচল করার এবং সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে তারা উসকানিমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়।
আদালতের নির্দেশের পর তিনজনকে কড়া পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহবাগ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটি রাজধানীর শিক্ষা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।