খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
নোয়াখালীর হাতিয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে পালানোর অভিযোগে এক মসজিদের ইমামকে স্থানীয় জনগণ আটক করেছে। এ ঘটনায় এলাকার মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে ওই ছাত্রী হঠাৎ নিখোঁজ হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায়, স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম তাকে নিয়ে পালিয়েছেন। পরে ইমামের অবস্থান জানতে পেরে ছাত্রীর স্বজনরা তাকে চট্টগ্রাম থেকে ধরে আনে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয়রা ওই মাদরাসার ছাত্রীকে তার পরিবারের কাছে ফেরত দেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়ে এখনো নাবালিকা। তাকে ভুল বুঝিয়ে বা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ধর্মীয় দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে আমরা এমন আচরণ আশা করিনি। আমি চাই এই ঘটনার সঠিক বিচার হোক।”
অভিযুক্ত মাওলানা আব্দুল করিম (৩৫) সোনাদিয়া চৌররাস্তা বাজার এলাকার রাস্তার মাথা মাদরাসা ও মসজিদের ইমাম। তিনি পৌরসভা ৭নং ওয়ার্ডের মাহমুদ হকের ছেলে। অভিযুক্ত বলেন, “আমার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। আমি জোর করে তাকে সঙ্গে নেইনি। তবে লোকজন আমার ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।”
স্থানীয় চর চেঙ্গা বাজারের সেক্রেটারি আব্দুল মন্নান বলেন, “যেহেতু মেয়েটি নাবালিকা, তাই তার বিষয়টি তার অভিভাবকরা বিবেচনা করবেন। পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোরশেদ আলম বলেন, “কিছু ব্যক্তি মোবাইলে বিষয়টি জানিয়েছে, তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। মেয়ের বাবাকে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনাটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক হাজার মানুষ নদী পথে পৌঁছানো ইমাম ও ছাত্রীকে ঘিরে ধরেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাদের নিরাপদ স্থানে রাখেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ভুক্তভোগী ছাত্রীর শ্রেণি | সপ্তম |
| ভুক্তভোগীর বয়স | নাবালিকা (সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়) |
| অভিযুক্ত | মাওলানা আব্দুল করিম (৩৫) |
| অবস্থান | সোনাদিয়া চৌররাস্তা বাজার, নদী পথে চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার |
| পুলিশি পদক্ষেপ | লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায়; বাবা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
| স্থানীয় প্রশাসনের মন্তব্য | নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকরা সিদ্ধান্ত নেবেন |
স্থানীয়রা এই ঘটনায় ন্যায়বিচারের তাগাদা জানিয়েছেন। বিশেষ করে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার চাচ্ছে, ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তির প্রতি এই ধরনের কদর্য কাজ যেন আইনের আওতায় আসে।
এ ঘটনায় এলাকায় সামাজিক সচেতনতা, বাবা-মায়ের উদ্বেগ ও প্রশাসনের তৎপরতা এক সঙ্গে ফুটে উঠেছে।