খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এক বছর ধরে কোনো ডাক্তার যান না। ফলে রোগীরা নিজেরা রোগের বর্ণনা না দিয়ে সরাসরি ওষুধের নাম বলেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে।
জরাজীর্ণ ভবন, বিদ্যুৎ-পানির অভাব আর চিকিৎসক সংকটে নাকাল স্থানীয়রা বলছেন—এই কেন্দ্র এখন ‘নামেই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, বাস্তবে ওষুধ বিতরণের ঘর।’
উপজেলায় চারটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি হলো রাঙ্গামাটিয়া কেন্দ্র। পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা মার্জিয়া আক্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলেও প্রায় এক বছর ধরে আসেন না। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরের এই কেন্দ্র এখন কার্যত জনবিচ্ছিন্ন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রোগীরা ফার্মাসিস্ট আব্দুল হান্নানের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু ওষুধের নাম বলছেন, আর তিনি নাম লিখে এক-দুই পাতা করে ওষুধ দিয়ে দিচ্ছেন।
তিন মাস অন্তর হাসপাতালে ১৭ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও অভিযোগ আছে—মাসের শুরুতেই সব ওষুধ শেষ হয়ে যায়, পরে আর কিছু পাওয়া যায় না।
উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলা ভবনটি ভগ্নদশাগ্রস্ত। নেই বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়েছে, চারদিকে ময়লা-আবর্জনা, মশা-মাছির উপদ্রব। আশপাশে লোকজন খোলা জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করেন, নেই কোনো বাউন্ডারি দেয়াল বা গেট।
মেডিক্যাল অফিসার ডা. বাদল সূত্রধর বলেন, “আমার পোস্টিং উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে হলেও সংযুক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মাসে এক দিন গিয়ে চিকিৎসা দিয়ে থাকি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল হোসেন বলেন, “বাদল সূত্রধর উপজেলা হাসপাতালে সংযুক্তি দায়িত্বে আছেন। তাঁকে সপ্তাহে এক দিন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে সেবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
খবরওয়ালা/আশ