খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে পৌষ ১৪৩২ | ২৭ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) ১৫তম প্রশাসক হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছেন ধনকুবের জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। আজ বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সিনেটের ভোটাভুটিতে ইলন মাস্কের এই ঘনিষ্ঠ মিত্র ও স্পেসএক্সের সহযোগী বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে নাসার শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন। আইজ্যাকম্যানের এই নিয়োগ কেবল নাসার নেতৃত্বেই পরিবর্তন আনছে না, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ নীতির আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সিনেটের চূড়ান্ত শুনানির পর অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে আইজ্যাকম্যান ৬৭-৩০ ব্যবধানে জয়লাভ করেন। শুনানিতে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মার্কিন সিনেটরদের জানিয়েছিলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মহাকাশ গবেষণায় চীন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং এই প্রতিযোগিতায় চীনকে পরাজিত করতে নাসার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে কাজের গতি বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। আইজ্যাকম্যানের এই নিয়োগকে মহাকাশ খাতের বেসরকারিকরণের একটি বড় ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিচে জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের নিয়োগ ও নাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| নতুন প্রশাসকের নাম | জ্যারেড আইজ্যাকম্যান (১৫তম প্রশাসক)। |
| সিনেটের ভোটাভুটি | ৬৭-৩০ ব্যবধানে চূড়ান্ত অনুমোদন। |
| প্রধান মিত্র | ইলন মাস্ক (সিইও, স্পেসএক্স)। |
| মূল লক্ষ্য | ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে অবতরণ ও মঙ্গল অভিযান। |
| কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী | চীন (মহাকাশ প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বিস্তার)। |
| পুরানো অভিজ্ঞতা | বেসরকারি নভোচারী ও ইন্সপিরেশন-৪ মিশনের কমান্ডার। |
আইজ্যাকম্যানের এই পথচলা অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তাঁর মনোনয়ন একবার প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, আইজ্যাকম্যান অতীতে ডেমোক্র্যাটদের অনুদান দিয়েছিলেন। তবে ইলন মাস্কের নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন এবং প্রশাসনের ভেতরে প্রভাবশালী মিত্রদের প্রচেষ্টায় তিনি আবারও আলোচনায় ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের পূর্বাভাস সত্য করে তিনি নাসার হাল ধরলেন।
আইজ্যাকম্যানের নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার পর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত নাসা প্রধান ও পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ডাফি লেখেন, ২০২৮ সালে চাঁদে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণে আইজ্যাকম্যানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উল্লেখ্য, শন ডাফি নাসাকে স্থায়ীভাবে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যা নিয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে তাঁর বড় ধরনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। আইজ্যাকম্যানের এই অনুমোদনের মাধ্যমে নাসা একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রাখল।
জ্যারেড আইজ্যাকম্যান নিজেও একজন দক্ষ পাইলট এবং মহাকাশচারী। তিনি ২০২১ সালে বিশ্বের প্রথম সম্পূর্ণ বেসামরিক মহাকাশ মিশন ‘ইন্সপিরেশন-৪’-এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিলিয়নেয়ার এই উদ্যোক্তা ‘শিফট ফোর পেমেন্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা। এখন তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে নাসার দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা আর্টেমিস মিশনকে সফল করা এবং স্পেসএক্সের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে নাসার সমন্বয় আরও বৃদ্ধি করা। মহাকাশ গবেষণার এই নতুন যুগে আইজ্যাকম্যানের হাত ধরে যুক্তরাষ্ট্র কত দ্রুত মঙ্গলের পথে পা বাড়ায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।