ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এক খামারি তাঁর এক বিশালাকৃতির ষাঁড়কে ব্যতিক্রমী ও হাস্যরসাত্মক নাম দিয়েছেন ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’। নামকরণের এই অভিনব কৌশল ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালো রঙের এই বিশাল ষাঁড়টি আকারে যেমন বড়, তেমনি স্বভাবেও বেশ চঞ্চল। খামারির ভাষ্য অনুযায়ী, গরুটি অতিরিক্ত খাবার খায় এবং খাবার না পেলেই জোরে জোরে চিৎকার করে। এই আচরণ থেকেই মজা করে তিনি গরুটির নাম রাখেন ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী’।
ভিডিওতে দেখা যায়, খামারি হাটের ভেতরে দাঁড়িয়ে গরুটির পরিচয় দিচ্ছেন এবং নামকরণের কারণ ব্যাখ্যা করছেন। তিনি বলেন, গরুটি খাবারের প্রতি অত্যন্ত লোভী এবং অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ খাবার খেয়ে ফেলে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, গরুটি একবারে প্রায় বারো কেজি পরিমাণ চালের জাউ খেতে সক্ষম। এছাড়া প্রতিদিন নিয়মিত ঘাস ও খড় খাওয়াতে হয়।
বর্তমানে কোরবানির এই ষাঁড়টির দাম হাঁকা হচ্ছে প্রায় নয় লাখ টাকা। খামারি জানিয়েছেন, এই দামে বিক্রি হলে তিনি গরুটি বিক্রি করে দেবেন। তবে দাম নিয়ে এখনো ক্রেতাদের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে গরুটির নাম ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে বিষয়টিকে মজার দৃষ্টিতে দেখছেন, আবার কেউ কেউ কৌতূহল প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে মন্তব্য বিভাগে নানা ধরনের রসিকতা ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
নিচে কিছু উল্লেখযোগ্য মন্তব্য তুলে ধরা হলো—
মন্তব্যকারীর নাম
মন্তব্য
খোরশেদ আলম
নাম শুনে গরু রাগ করবে কি না তা নিয়ে মজা করেছেন
হিরণ আলী
খাবার বেশি দেওয়ার কারণে গরুর অস্থিরতা ও চিৎকার নিয়ে মন্তব্য করেছেন
মহসিন হোসেন
নামটিকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় বলেছেন
সাব্বির আহমেদ প্রতীক
কৌতুক করে গরুর নামকরণ নিয়ে হাস্যরস করেছেন
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কোরবানির পশুর হাটে এমন ব্যতিক্রমী নামকরণ ও উপস্থাপন ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনেক সময় এ ধরনের কৌশল পশুর প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা হাটের বেচাকেনায়ও প্রভাব ফেলে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই ধরনের ভিডিও বিনোদন হিসেবেই গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এটি নিয়ে আলোচনা বেশি দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে সৃজনশীল বিপণন কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন, যা আধুনিক সময়ে হাটবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
সব মিলিয়ে ঈদুল আজহার আগে এই ব্যতিক্রমী নামকরণ ও ভাইরাল ভিডিওটি কোরবানির হাটকে ঘিরে একটি নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করেছে।