খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের চিরস্মরণীয় নায়ক মান্নার আজ ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, মাত্র ৪৪ বছর বয়সে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলে যান। সময় কেটে গেছে প্রায় দেড় যুগ, তবুও দর্শক হৃদয়ে তাঁর জনপ্রিয়তা অটুট। আজও ভক্তরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছেন এই প্রিয় অভিনেতাকে।
মান্নার অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ শৈশব থেকেই প্রবল ছিল। উচ্চমাধ্যমিক পর তিনি ঢাকায় পড়াশোনার সময় ১৯৮৪ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে রূপালি জগতে পা রাখেন। প্রথম অভিনীত ছবি ‘তওবা’ হলেও মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা ছিল ‘পাগলি’। তবে ১৯৯১ সালে মোস্তফা আনোয়ার পরিচালিত ‘কাসেম মালার প্রেম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি দর্শকের নজরে আসেন।
মান্না ধীরে ধীরে নিজেকে ঢালিউডের নির্ভরযোগ্য নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রসমূহের মধ্যে রয়েছে:
| বছর | চলচ্চিত্র | পরিচালনা | বিশেষত্ব |
|---|---|---|---|
| ১৯৯৩ | দাঙ্গা | কাজী হায়াত | সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন |
| ১৯৯৪ | ত্রাস | কাজী হায়াত | অ্যাকশন অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি |
| ১৯৯৫ | অন্ধ প্রেম | – | দর্শকপ্রিয় রোমান্টিক চরিত্র |
| ১৯৯৬ | প্রেম দিওয়ানা | – | বক্স অফিস হিট |
| ১৯৯৭ | ডিস্কো ড্যান্সার | – | নৃত্য ও একশন মিলিত চরিত্র |
| ১৯৯৯ | কে আমার বাবা | – | সুপারহিট ছবি |
| ১৯৯৯ | আম্মাজান | – | সমালোচক ও দর্শক উভয় প্রশংসা |
| ১৯৯৯ | লাল বাদশা | – | সর্বাধিক জনপ্রিয় চরিত্র |
১৯৯৯ সালে তিনি এককভাবে তিনটি সুপারহিট ছবি উপহার দেন: ‘কে আমার বাবা’, ‘আম্মাজান’, এবং ‘লাল বাদশা’। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
মান্না অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও সফল ছিলেন। নিজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি নির্মাণ করেন ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র যেমন ‘লুটতরাজ’, ‘আমি জেল থেকে বলছি’, ‘স্বামী স্ত্রীর যুদ্ধ’, এবং ‘দুই বধূ এক স্বামী’।
তাঁর অর্জিত সম্মাননাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (একবার)
মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার (তিনবার)
বাচসাস পুরস্কার (পাঁচবার)
মান্না ছিলেন পরিবারপ্রেমী। সহ-অভিনেত্রী শেলী কাদেরকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাঁদের একমাত্র পুত্র সিয়াম ইলতিমাস মান্না।
মান্নার চলচ্চিত্রে অবদান এবং দর্শকের হৃদয়ে গড়ে ওঠা ভালোবাসা তাঁকে আজও অমর করে রেখেছে। বাংলা সিনেমার ইতিহাসে তাঁর নাম চিরন্তন হয়ে থাকবে, এবং প্রতি বছরের এই দিনে ভক্তরা স্মৃতিচারণে অংশ নেন, যেন তার উপস্থিতি এখনও দর্শকের মনে বেঁচে আছে।