খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর পর পেরিয়ে গেছে প্রায় তিন দশক, তবুও তার মৃত্যুর রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। সম্প্রতি আবারও এই ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মৃত্যুর ২৯ বছর পর আদালত অবশেষে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ আদেশ দেন। মামলাটি তদন্তের জন্য রমনা থানায় পাঠানো হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ মারা যান। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা জল্পনা থাকলেও কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি।
নতুন আদালতের নির্দেশের পর সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল অভিনেতা ডন হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সালমান শাহর পরিবার বরাবরই দাবি করে আসছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মা নীলা চৌধুরীর অভিযোগ ছিল— হত্যার মামলা করতে চাইলে পুলিশ সেটিকে অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করেছিল।
পুলিশ বলেছিল, তদন্তের সময় যদি হত্যার প্রমাণ মেলে, তবে মামলাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হত্যা মামলায় রূপ নেবে।
মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারের অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন স্ত্রী সামিরা। তবে সামিরা সবসময়ই মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে দাবি করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সালমান মানসিকভাবে আত্মহত্যাপ্রবণ ছিলেন এবং এর আগেও তিনবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি জানান, এর দুটি ঘটনার মেডিকেল রেকর্ড আছে এবং আরেকটি অন্য হাসপাতালে হয়েছিল—সবই তাদের বিয়ের আগের ঘটনা।
নতুন মামলার নির্দেশের পর সামিরা চার দিন ধরে নিখোঁজ। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর বন্ধ রয়েছে।
সালমান শাহ নব্বইয়ের দশকের শুরুতে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন এবং মাত্র চার বছরে ২৭টি ছবিতে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। দর্শক ও সমালোচকদের কাছে তিনি ছিলেন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রায় তিন দশক পরও তার নাম অমলিন রয়ে গেছে। মামলার পুনরুজ্জীবনের খবরে ভক্তদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন