খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সাম্প্রতিক বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় দেশের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক। অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দোটানায় পড়েছেন। অথচ শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো আশ্বাসমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার ঢাকার অধিকাংশ স্কুলেই শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম ছিল। যদিও চলমান ষাণ্মাসিক পরীক্ষার কারণে অনেক অভিভাবক শঙ্কা নিয়েই সন্তানদের পাঠিয়েছেন। কেউ কেউ নিজে গিয়ে স্কুলে দিয়ে আবার নিয়ে এসেছেন।
অভিভাবকরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মর্মান্তিক দৃশ্যগুলো শিশুদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা বারবার প্রশ্ন করছে—”আমাদের স্কুল কি নিরাপদ?” অনেক অভিভাবক এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলছেন।
শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক আলতাফ হোসেন বলেন, “আমার সন্তানও তো মাইলস্টোনের মতোই একটি স্কুলে পড়ে। ভাবতে গেলে গা শিউরে ওঠে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে স্কুল চলাকালে এমন বড় দুর্ঘটনা এই প্রথম, আর এত বিপুলসংখ্যক হতাহতের ঘটনাও নজিরবিহীন। অথচ এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ভূমিকা ছিল চরম নিষ্ক্রিয়।
একাধিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও অধ্যক্ষ বলছেন, স্কুল খোলা রাখা এবং পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি অমানবিক ছিল। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের উচিত ছিল স্কুল বন্ধ রাখা।
বিমান দুর্ঘটনার পরদিনই ছিল এইচএসসি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীরা দাবি জানালেও রাত গভীর না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের কোনো ঘোষণা আসেনি। শেষ পর্যন্ত তথ্য উপদেষ্টা ঘোষণা দিলেও সেটি শিক্ষার্থীদের জানাতে অনেক দেরি হয়ে যায়। অনেকে সকালেই পরীক্ষাকেন্দ্রে চলে যায়।
এমন অবস্থায় মঙ্গলবার মাইলস্টোন স্কুলে আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টাসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘেরাও করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বৃহস্পতিবারের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি মাউশি মহাপরিচালকের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, দুর্ঘটনা আকস্মিক হলেও প্রস্তুতির ঘাটতি দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত ভর্তির কারণে অধিকাংশ স্কুলে ডাবল শিফট চালু, অপ্রতুল নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব, খোলা বারান্দা ও যান চলাচলের অবাধতা—সব মিলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছে।
অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, “স্কুলে সন্তানদের পাঠানো মানে তাদের নিরাপদ হাতে তুলে দেওয়া। কিন্তু মাইলস্টোনের ঘটনায় সে আস্থা ভেঙে গেছে।”
তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনার প্রশংসা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ডে অভিভাবকের নাম্বার ও রক্তের গ্রুপ থাকা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদানের সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে—শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার।”
খবরওয়ালা/টিএসএন