নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ৪৩ জনের তালিকা তৈরি

সরকার সম্প্রতি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অতি ঝুঁকিতে থাকা ৪৩ জন রাজনীতিবিদ, ছাত্রনেতা, সাংবাদিক, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী এবং জুলাই যোদ্ধাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এই তালিকার মধ্যে ২০ জনকে ইতিমধ্যেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু ব্যক্তির বাসভবনে ইউনিফর্মধারী পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে যেসব ব্যক্তির নিজস্ব গাড়ি নেই, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে পুলিশ এখন ভাবনাচিন্তা করছে।

পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদানের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, তারা সাধারণত রিকশা বা অন্য ভাড়া করা বাহনে চলাফেরা করেন। গাড়ি ছাড়া এ ধরনের নিরাপত্তা প্রদান পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা ১৩ জনের একটি তালিকা পেয়েছি, যাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” এখন পর্যন্ত চারজনের নিরাপত্তায় গানম্যান নিয়োগ করা হয়েছে, বাকি ৯ জনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া চলমান, কারণ তাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই।

পুলিশের বিশেষ শাখা ৩০ জনের জন্য গানম্যান নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে ১৭ জন ইতিমধ্যেই সাদা পোশাকে নিরাপত্তা দিচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ঝুঁকিতে থাকা ২০ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের সম্পাদক, এনসিপির ছয় নেতা এবং অন্যান্য ব্যক্তি রয়েছেন।”

নিম্নের টেবিলে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যেই গানম্যান পেয়েছেন তাদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা দেওয়া হলো:

নাম পদবী / সংগঠন নিরাপত্তার ধরন
নাহিদ ইসলাম সাবেক উপদেষ্টা, এনসিপি গানম্যান
আখতার হোসেন সদস্য সচিব, এনসিপি গানম্যান
হাসনাত আবদুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চল মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি গানম্যান
সারজিস আলম উত্তরাঞ্চল মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি গানম্যান
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মুখ্য সমন্বয়ক, এনসিপি গানম্যান
তাসনিম জারা সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব, এনসিপি গানম্যান
নুরুল হক নূর গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি গানম্যান

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও সিনিয়র নেতাদের, জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করছেন, তাদের আবেদন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তের পরে অনুমোদিত হবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় বেসরকারি সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়োগ দিতে পারবেন এবং সীমিত সময়ের জন্য আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পাবেন। এ নীতিমালা অনুযায়ী, রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের জন্য ‘আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স ও রিটেইনার নিয়োগ নীতিমালা, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করার পর তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা এবং প্রেক্ষাপট যাচাই করে আবেদন অনুমোদিত হবে। এরপর তাদের নিরাপত্তা ও অস্ত্র লাইসেন্স কার্যকর করা হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।