খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 21শে বৈশাখ ১৪৩২ | ৪ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রাক্ষুসে মাছ পিরানহা, যা দ্রুত বংশবিস্তারে সক্ষম এবং জলাশয়ে প্রবেশ করলে স্থানীয় প্রজাতির ওপর আক্রমণ চালিয়ে খাদ্যচক্রে ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাছ এক ধরনের জলজ আগ্রাসন। এগুলো খোলা জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়লে অনেক দেশি মাছ যেমন পুঁটি, শিং, টেংরা বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। পরিবেশের ওপর এর প্রভাব ভয়াবহ।
১৭ বছর আগে ২০০৮ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর ও মৎস্য অধিদপ্তর ‘পিরানহা মাছ’ আমদানি, চাষ, সংরক্ষণ ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন জেলার গোপন খামারে এখনো এই মাছ চাষ হয়ে চলেছে। বিশেষ করে খুলনা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার কিছু এলাকায় ‘রেড বেলি পিরানহা’ নামে পরিচিত এ মাছ রূপচাঁদা নাম দিয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অনেকেই মাছের নাম পরিবর্তন করে বিক্রি করছে। সাধারণ মানুষ জানে না তারা কী খাচ্ছে।
এ নিয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, পিরানহার যত প্রজাতি আছে, সব কটির বাজারজাত, চাষ ও পরিবহন মৎস্য সংরক্ষণ আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন এই প্রজাতির মাছের বেচাকেনা অনেক কমে এসেছে। তবে সস্তা হওয়ায় দেশে এই প্রজাতির মাছ চাষের একটা প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানে তা কমে এসেছে।
গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, পিরানহার বৈজ্ঞানিক নাম ‘অস্টারিওপিস’। পাকুর ‘কলোসোমা ব্রাখিয়াপোমাম’। পিরানহা গোত্রে প্রায় ১ হাজার প্রজাতির মাছ আছে। পাকু পুরোপুরি পিরানহা না হলেও পিরানহা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটিকে পিরানহা বলে অনেকে ভুল করেন। পিরানহা রাক্ষুসে স্বভাবের মাছ। মাংসাশী পিরানহার একটি ঝাঁক মিনিটের মধ্যে বড় কোনো প্রাণীকে কঙ্কালে পরিণত করতে পারে। অন্যদিকে, পাকু মাছ ছোট জলজ উদ্ভিদ ও পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে।
তাই এই মাছের চাষ দেশীয় মাছের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে।