অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৈঠকের পর ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘অবশ্যই নির্বাচন করার মতো পরিবেশ আছে।’
সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক্–প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী প্রধানদের প্রতিনিধি এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, বৈঠকে অংশ নেওয়া কোনো কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। বরং সবাই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠকে নির্বাচনী শান্তিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম সমন্বয়, সংখ্যালঘু ও সাম্প্রদায়িক নিরাপত্তা, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ, নির্বাচনী সরঞ্জাম পরিবহন, হেলিকপ্টার সহায়তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়সহ মোট ১৩টি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসি সচিব জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে তিন দিন, নির্বাচনের দিন ও পরবর্তী চার দিন—মোট আট দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে থাকবে। এছাড়া নির্বাচনী তদারকি বাড়াতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোনসহ আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ব্যবহার হবে।
বৈঠকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনে দেড় লাখ পুলিশ দায়িত্ব পালন করবেন। আনসার ও ভিডিপি’র সংখ্যা থাকবে প্রায় ৫.৫–৬ লাখ। এছাড়া ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনা নির্বাচনী কার্যক্রমে সহায়তা দেবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনে ড্রোন ব্যবহার করবে।
লুট হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘৮৫ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিগুলোর জন্য কাজ চলমান।’
আজকের সভা ছিল প্রস্তুতিমূলক, চূড়ান্ত নয়। ইসি ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাবে, লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধানদের প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই), পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড, এনটিএমসি, র্যাব ও সিআইডির শীর্ষ কর্মকর্তারা।