খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও চলমান সংঘাতের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের নির্মাণ সামগ্রীর বাজারে। বিশেষ করে রডের বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর রডের দাম ১১ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমাগত এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রতি টন রডের দাম এখন লাখ টাকার মাইলফলকের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা আবাসন খাতসহ সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল বা লোহার টুকরা (স্ক্র্যাপ) আমদানির খরচ বৃদ্ধি এবং অস্বাভাবিক জাহাজভাড়াই এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ। বিশ্ববাজারে প্রতি টন স্ক্র্যাপের দাম প্রায় ৫০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬,০০০ টাকা) বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এই বর্ধিত মূল্যের কাঁচামাল এখনো দেশে এসে পৌঁছায়নি, তবুও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জাহাজভাঙা শিল্প থেকে পাওয়া স্ক্র্যাপের ওপর। জাহাজভাঙা শিল্পের স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৩,০০০ টাকা বেড়ে এখন ৫৭,০০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি ব্র্যান্ডের রডের দামের তুলনামূলক চিত্র নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ব্র্যান্ডের নাম | যুদ্ধের আগের দাম (টাকা/টন) | বর্তমান বাজার দর (টাকা/টন) | দাম বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা) |
| বিএসআরএম (BSRM) | ৮৪,৫০০ | ৯৪,৫০০ | ১০,০০০ |
| একেএস (AKS) | ৮৩,০০০ | ৯৩,০০০ | ১০,০০০ |
| জিপিএইচ ইস্পাত (GPH) | ৮২,০০০ | ৯২,০০০ | ১০,০০০ |
| কেএসআরএম (KSRM) | ৮১,০০০ | ৯০,০০০ | ৯,০০০ |
| মাঝারি ব্র্যান্ড (গড়) | ৭৯,০০০ | ৮৯,০০০ | ১০,০০০ |
দেশে রড উৎপাদনের প্রধান উপাদান স্ক্র্যাপের প্রায় ৯৩ শতাংশই আমদানিনির্ভর। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে গড়ে ৫৩ লাখ টন স্ক্র্যাপ আমদানি হয়। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আমদানির চিত্র বেশ হতাশাজনক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমদানির পরিমাণ কমে ৩.২৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আমদানির এই নিম্নমুখী প্রবণতার কারণে অনেক মিলের হাতে পর্যাপ্ত কাঁচামাল মজুত নেই। এর ফলে বাজারে রডের সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জিপিএইচ ইস্পাতের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, জাহাজভাড়া এবং ডলারের বিনিময় হারের ঊর্ধ্বগতির কারণে রড উৎপাদনের ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এতদিন অনেক কোম্পানি লোকসান দিয়ে রড বিক্রি করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে দাম সমন্বয় করা ছাড়া কোনো উপায় নেই।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জাহাজভাড়া আরও বাড়তে পারে। একই সাথে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে থাকলে রডের দাম খুব শীঘ্রই ১ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে করে সাধারণ মানুষের ঘর তৈরির স্বপ্ন যেমন বাধাগ্রস্ত হবে, তেমনি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক নির্মাণ কাজ।