খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঢালিউড চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া সম্প্রতি একটি পডকাস্টে তার গ্রেপ্তার ও জেল জীবনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিমানবন্দর থেকে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার হওয়ার এবং পরবর্তী দুই দিনের কারাবাস তার জীবনের পরিচিত মানুষদের আচরণে একটি নতুন দৃষ্টিকোণ খুলে দিয়েছে।
ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন, তবে তখন দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে পুলিশ তাকে আটক করলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা তিনি প্রথমবার অনুভব করেন। তিনি বলেন, “ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেলে বুঝলাম, আমি গ্রেপ্তার হচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে পৃথিবীটা থমকে গিয়েছিল।”
জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ফারিয়া জানিয়েছেন, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা তাকে জীবনের বড় শিক্ষা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে কাছের মানুষের আচরণে। এমনকি তার অনেক ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যমে তার সঙ্গে থাকা ছবি মুছে ফেলেছেন। কিছু মানুষ তখন তার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন।
ফারিয়া বলেন, “যাদের জন্য বছরের পর বছর নিজেকে উজাড় করেছি, তাদেরও আচরণ নতুনভাবে জানলাম। তবে কিছু মানুষও পেয়েছি, যারা সত্যিই সহানুভূতিশীল ও সহমর্মী।” তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জেলের অভ্যন্তরীণ মানুষজন যেমন জেলারেরা তাকে স্নেহ ও সহানুভূতিতে ট্রিট করেছেন, যা তার জন্য একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।
তিনি তার শারীরিক ও মানসিক পরিস্থিতিও তুলে ধরেন। দুই দিনের মধ্যে খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো হয়নি, তবু অজানা মানুষ তাকে খাওয়াচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এ ধরনের সহানুভূতি আমি কখনো ভুলব না।”
নিম্নলিখিত টেবিলে তার গ্রেপ্তার ও মামলা সংক্রান্ত তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | ঘটনা | স্থান | বিবরণ |
|---|---|---|---|
| ১৮ মে ২০২৪ | বিমানবন্দর থেকে আটক | হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | থাইল্যান্ড ফ্লাইটে ইমিগ্রেশন পুলিশের মাধ্যমে ভাটারা থানায় হস্তান্তর |
| ১৮–২০ মে ২০২৪ | কারাবাস | স্থানীয় কারাগার | দুই দিন কারাবাস; স্থানীয় জেলারের সহানুভূতি ও পরিচর্যা |
| মামলা | বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অভিযোগ | ভাটারা থানা | ছাত্র-জনতার ওপর ‘হত্যাচেষ্টা’ অভিযোগ; ফারিয়াকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত |
এই অভিজ্ঞতা ফারিয়ার কাছে বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা ও মানুষের প্রকৃত চরিত্রের একটি পরীক্ষার মতো প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে, কে সত্যিকারের আপন আর কে নয়।”