খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি সম্প্রতি এক বিতর্কিত ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যদি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শহরে প্রবেশ করেন, তাকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেওয়া হবে। এই নির্দেশের ভিত্তি হিসেবে আইসিসি বা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উল্লেখ করা হয়েছে, যা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহু নিজে এই মন্তব্যকে গুরুত্বহীন হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং নিউইয়র্ক সফরের পরিকল্পনা জানিয়ে বলেছেন যে, তিনি এটি গুরুত্ব দিতে চান না। এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে: যুক্তরাষ্ট্রের কোনো শহরের মেয়রের কি বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা আছে?
আইসিসি রোম সংবিধির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই চুক্তির সদস্য নয়। সংবিধির ১২–১৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, আদালত বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যদি অপরাধ কোনো সদস্যরাষ্ট্রের নাগরিক দ্বারা সংঘটিত হয় অথবা কোনো সদস্যরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে সংঘটিত হয়। এছাড়া, সদস্যরাষ্ট্রের অনুরোধ বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নির্দেশে আদালত বিচার শুরু করতে পারে।
ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে রোম সংবিধিতে যোগ দিয়েছে। ২০২১ সালে আইসিসি নিশ্চিত করেছে যে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সংঘটিত অপরাধ তাদের বিচারিক ক্ষমতার মধ্যে পড়ে। ২০২৪ সালে গাজায় অনাহার সৃষ্টির প্রচেষ্টা ও বেসামরিক জনগণের ওপর হামলার অভিযোগে নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।
আইসিসির নিজস্ব কোনো পুলিশ না থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে তারা সদস্যরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পরিস্থিতিতে “সর্বজনীন এখতিয়ার” একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আসে। গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের ক্ষেত্রে যে কোনো রাষ্ট্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিচার করতে পারে।
ইতিহাসে অ্যাডলফ আইখমান ও গাম্বিয়ার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমান সোনকোর মামলায় এই নীতি কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনের এই নীতি নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। নিউইয়র্ক পুলিশের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকলেও সর্বজনীন এখতিয়ার আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারকে কার্যকর করার সুযোগ প্রদান করে।