খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চারজন পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) বিকেলে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের পেরীর মোড় এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দুয়া–আঠারবাড়ি সড়কের পেরীর মোড় এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করেন। বিকেল নাগাদ একটি সন্দেহজনক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় সেটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তল্লাশির একপর্যায়ে অটোরিকশার পেছনের অংশের ইঞ্জিনের পাশে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৩০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত এই মাদকের বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৯ লাখ টাকা।
নিচে গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিদের বিস্তারিত পরিচয় ও অভিযানের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| নাম | বয়স | গ্রাম ও উপজেলা | জেলা |
| মো. কবির | ৩৪ বছর | চানপুর, বিজয়নগর | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
| মো. সোহাগ মিয়া | ২৮ বছর | সোয়াবই, মাধবপুর | হবিগঞ্জ |
| মো. রিপন মিয়া | ৪০ বছর | ইসুলিয়া, গৌরীপুর | ময়মনসিংহ |
| মো. মনিরুল ইসলাম | ২২ বছর | গিলামোড়া, বিজয়নগর | ব্রাহ্মণবাড়িয়া |
এই চাঞ্চল্যকর আটকের ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে কেন্দুয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা আন্তঃজেলা মাদক পাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করে আসছিল।
সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার সকালে নেত্রকোনা জেলা আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নেত্রকোনা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে ইদানীং মাদকের বিস্তার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে এই মাদক কারবারিরা তাদের জাল বিস্তার করছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পরিবহনের রুট হিসেবে কেন্দুয়া ও সংলগ্ন এলাকাগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক এবং স্থানীয় সচেতন মহলের সতর্ক অবস্থানই পারে মাদকের এই করাল গ্রাস থেকে সমাজকে রক্ষা করতে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই সফল অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং মাদক নির্মূলে নিয়মিত চিরুনি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।