নোয়াখালীর তিনটি পৃথক উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আকস্মিক বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন কবিরহাট উপজেলার মো. আয়মান (৯), হাতিয়ার আরাফাত (২১) এবং সুবর্ণচরের তানজিলা আক্তার (১৭)।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তথ্যে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে সুবর্ণচর উপজেলার চরআমান উল্যাহ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে বজ্রপাতে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান তানজিলা আক্তার। তিনি ওই এলাকার শেখ মোজাম্মেল সেন্টুর মেয়ে এবং স্থানীয় একটি ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রতিদিনের মতো সকালে বাড়ির পাশে হাঁটতে বের হলে হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারসহ স্থানীয়রা শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন।
পরিবার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তানজিলা ছিলেন মেধাবী শিক্ষার্থী। গত বছর দাখিল পরীক্ষায় সুবর্ণচর উপজেলায় মাত্র দুজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেন, তাদের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। এমন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের আবহ আরও গভীর হয়েছে।
একই সময়ে কবিরহাট উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের চর মণ্ডলিয়া গ্রামে আরেকটি দুর্ঘটনায় মো. আয়মান নামের এক শিশু প্রাণ হারায়। সোমবার দুপুরে বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আয়মান ওই এলাকার রফিক মিয়ার সন্তান।
অন্যদিকে, হাতিয়া উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামে ঘটে আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা। সোমবার দুপুরের দিকে মাঠ থেকে বাদাম তুলে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে নিহত হন আরাফাত নামের এক তরুণ। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, বজ্রপাতের সময় তিনি মায়ের সঙ্গেই ছিলেন এবং ঘটনাটি মায়ের চোখের সামনেই ঘটে। ঘটনাটি পরিবারকে গভীরভাবে বিপর্যস্ত করেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও থানার কর্মকর্তারা পৃথকভাবে তিনটি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং ঘটনাস্থলে তদন্তকারী দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
নিচে নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলো—
| নাম |
বয়স |
উপজেলা |
ঘটনা |
সময় |
| মো. আয়মান |
৯ বছর |
কবিরহাট |
বাড়ির আঙিনায় খেলার সময় বজ্রপাত |
সোমবার দুপুর |
| আরাফাত |
২১ বছর |
হাতিয়া |
মাঠ থেকে ফেরার পথে বজ্রপাত |
সোমবার দুপুর |
| তানজিলা আক্তার |
১৭ বছর |
সুবর্ণচর |
বাড়ির পাশে হাঁটার সময় বজ্রপাত |
মঙ্গলবার সকাল ৭টা |
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম ও প্রাক-বর্ষা সময়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে খোলা মাঠ, নদী-চরাঞ্চল এবং গ্রামীণ এলাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। স্থানীয়রা বলছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সতর্কতা মেনে চললে অনেক প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব।
একই দিনে তিনজনের মৃত্যুতে নোয়াখালীর তিন উপজেলায় শোকের আবহ বিরাজ করছে। পরিবারগুলো এখন প্রিয়জন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছে, আর এলাকাবাসী প্রার্থনা করছে যেন ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা আর না ঘটে।