খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
নাটোরের লালপুর, রাজশাহীর বাঘা এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত পদ্মার চরাঞ্চলে বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় আজিজুল হক (৩৫) নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নাটোরের লালপুর থানা এলাকার চরজাজিরা সংলগ্ন পদ্মা নদীতে ভাসমান একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট থেকে তাঁর গুলিবিদ্ধ মরদেহটি উদ্ধার করে যৌথভাবে থানা ও নৌ পুলিশ।
লালপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা উপজেলার চরজাজিরা এলাকার পদ্মা নদীতে একটি নীল-সবুজ রঙের এবং লাল রঙের ছাউনিযুক্ত স্পিডবোট অবাতভাবে ভাসতে দেখেন। কৌতূহলবশত নিকটে গিয়ে স্থানীয়রা স্পিডবোটের ভেতরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে লালপুর থানার পুলিশ এবং লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্পিডবোটের ভেতর থেকে গুলিবিদ্ধ মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন (Inquest Report) তৈরি করে। এরপর মৃত্যুর সঠিক কারণ ও আঘাতের প্রকৃতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য মরদেহটি নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে নিহত যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে। ঘটনার সার্বিক তথ্য, নিহতের পরিচয় এবং চরাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য |
| নিহত ব্যক্তির নাম ও ডাকনাম | আজিজুল হক ওরফে ঝড় |
| বয়স | ৩৫ বছর |
| পারিবারিক পরিচয় | পিতা: আবদুল শেখ, মাতা: হাসিনা বেগম |
| স্থায়ী ঠিকানা | পাবনাপাড়া গ্রাম, বাগাতিপাড়া উপজেলা, নাটোর জেলা |
| অপরাধী চক্রের সাথে সম্পৃক্ততা | কুষ্টিয়ার আলোচিত অপরাধী সংগঠন ‘কাকন বাহিনী’র সক্রিয় সদস্য |
| উদ্ধারকৃত স্থান ও আলামত | লালপুর থানার চরজাজিরা এলাকা, পদ্মা নদী (নীল-সবুজ ও লাল ছাউনির স্পিডবোট) |
| পূর্ববর্তী সহিংসতার পরিসংখ্যান | আধিপত্য বিস্তার ও বালুমহাল কেন্দ্রিক সংঘর্ষে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৫ জন নিহত |
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর লালপুর থানার পুলিশ, রাজশাহীর বাঘা থানার পুলিশ এবং কুষ্টিয়ার লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লালপুর (নাটোর), বাঘা (রাজশাহী) ও ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) উপজেলার সীমানা সংযোগস্থলে অবস্থিত পদ্মার চরাঞ্চলটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা পুলিশ কর্মকর্তাদের জানান যে, আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে ওই চরের বালুমহাল এবং ঘাটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে স্থানীয় বেলাল গ্রুপ এবং কুষ্টিয়ার কাকন গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এই সশস্ত্র গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে কাকন বাহিনীর সদস্য আজিজুল হক গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে সহযোগীরা বা প্রতিপক্ষরা তাঁর মরদেহ স্পিডবোটে রেখে চলে যায়।
ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ঘটনাস্থলটি তিন জেলার সীমানায় হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়া ও মামলা দায়ের নিয়ে প্রাথমিক জটিলতা দেখা দেয়। এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, মারামারি ও গোলাগুলির মূল ঘটনাস্থলটি তিন জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে হওয়ায় ঠিক কোন প্রশাসনিক জোনের বা কোন থানার অধীনে মামলাটি দায়ের ও তদন্ত হবে, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক ও একধরনের জটিলতা রয়েছে।
তবে আইনি সুরাহার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে স্পষ্ট করে বলেন যে, যেহেতু নিহত আজিজুল হকের মরদেহটি নদী এলাকা থেকে এবং একটি ভাসমান স্পিডবোটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেহেতু নদী অঞ্চলের নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীকুন্ডা নৌ পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক ও সুরতহাল তদন্ত কার্য পরিচালনা করবে। তবে মূল ফৌজদারি অপরাধের মামলাটি লালপুর থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হবে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।