খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
উত্তর ২৪ পরগনার বাগদায় ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একই পরিবারের দুই গৃহবধূ শ্বশুর-শাশুড়ি ও তিন মেয়েকে চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে পালিয়ে যান। গন্তব্য ছিল একই পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবন গড়া। তবে শেষমেশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুই নারীকে আটক করা হলেও তাদের প্রেমিক পালাতে সক্ষম হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নিখোঁজ হয়ে যান ইয়াসিন শেখ ও আনিসুর শেখের স্ত্রী। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের সন্ধান পাননি। পরে দুই ভাই থানায় অভিযোগ দায়ের করে জানান, তাদের স্ত্রীরা স্বেচ্ছায় পালাননি, বরং প্রতিবেশী যুবক আরিফ মোল্লাই তাদের প্রলুব্ধ করে নিয়ে গেছে।
আরিফের স্ত্রীও পুলিশের কাছে একই দাবি করেন। তার ভাষ্য, আরিফ দুই গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে পরিকল্পনা করে তাদের নিয়ে পালিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ আসায় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। মোবাইল ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দুই নারীর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই আরিফ সরে পড়ে।
মঙ্গলবার রাতে দুই গৃহবধূকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে স্বীকার করেন, একই প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর জন্যই এই পরিকল্পনা করেছিলেন।
ছোট বউ নাজমা বেগম বলেন, তারা চায়ের সঙ্গে বিষ মেশাননি, শুধু ঘুমের ওষুধ দিয়েছিলেন। কেন এমনটা করেছিলেন জানতে চাইলে পাশে থাকা বড় জা কুলচান বলেন, ‘আমরা জানতাম বাড়ির লোকজন আটকাতে চাইবে। তাই আগে থেকেই ব্যবস্থা করেছিলাম, যেন তারা ঘুমিয়ে পড়েন এবং আমরা পালাতে পারি।’
একই প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কুলচান দ্বিধাহীনভাবে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ, আমরা দুজন একই প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছিলাম।’
দুই নারীর অকপট স্বীকারোক্তিতে পুলিশও বিস্মিত। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় একাধিক পুরুষের নাম উঠে আসে, কিন্তু এখানে দুজনের লক্ষ্য ছিল একই ব্যক্তি—যা তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, তারা কখনো ভাবেননি একই পরিবারের দুই গৃহবধূ একই পুরুষের প্রেমে পড়তে পারেন এবং এমন পরিকল্পনা করতে পারেন। অনেকের মতে, এ ঘটনা সমাজ ও পারিবারিক সম্পর্কে ভাঙনের চিত্র স্পষ্ট করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুই নারীকে আদালতে তোলা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। এদিকে, মূল অভিযুক্ত আরিফ মোল্লাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
খবরওয়ালা/শরিফ