খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
যশোরের কেশবপুরে বিজ্ঞান পরীক্ষার খাতায় কম নম্বরের বিষয়ে জানতে চাওয়ায় এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের দশকাউনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসকেও অবগত করা হয়েছে।
অভিযোগ ও ছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় প্রান্তিক পরীক্ষার বিজ্ঞান বিষয়ের খাতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। এ সময় পাঁচ রোলধারী ছাত্র রোহান শেখের খাতায় ৪৯ নম্বর দেওয়া হয়। সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও নম্বর কম পাওয়া নিয়ে রোহান শিক্ষক চিন্ময় সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি লাঠি দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে লাঠি ভেঙে গেলে শিক্ষক রোহানের দুই চোয়ালে থাপ্পড় মারেন। এতে রোহান মারাত্মকভাবে আহত হয়।
রোহানের বাবা রমি শেখ অভিযোগ করেন, ‘আমার ছেলেকে ডাক্তার না দেখিয়ে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। বিদ্যালয় ছুটির আগে রোহানকে আনার পর তার চোয়াল, মাথা ও পিঠে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমার ছেলেকে মারধরের জন্য শিক্ষক চিন্ময় সরকারের বিচার চাই। একই সঙ্গে আহত অবস্থায় আটকে রাখার কারণে প্রধান শিক্ষক দীন মোহাম্মদেরও বিচার চাই।’
দশকাহুনিয়া গ্রামের শামীম শেখ অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক চিন্ময় সরকার এর আগেও একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ও হাফিজুরের মেয়েকে মারধর করেছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও শিক্ষক চিন্ময় সরকার সাড়া দেননি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘রোহানকে মারধরের কারণে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে সহকারী শিক্ষক চিন্ময় সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।’
সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সন্তোষ মণ্ডল জানান, ‘ওই ছাত্রের বাবার কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিক্ষক চিন্ময় সরকারকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
খবরওয়ালা/শরিফ