খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে পৌষ ১৪৩২ | ২৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাষ্ট্রকাঠামোর ভেতরেই ‘মবতন্ত্র’ বা দলবদ্ধ সহিংসতার সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে—এমন গুরুতর মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্বে যারা অধিষ্ঠিত, তাদের একটি অংশ মব ভায়োলেন্সের পেছনের শক্তিকে নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা, ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ এবং দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদে আয়োজিত এক যৌথ প্রতিবাদ সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভাটির আয়োজন করে নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদক পরিষদ। ‘মব ভায়োলেন্সে আক্রান্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই সভা পরিচালনা করেন দৈনিক বণিক বার্তার সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বর্তমানে যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা প্রতিহত করার দায় কেবল নাগরিক সমাজের নয়; মূল দায়িত্ব সরকারের। দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার জবাব সরকারকেই দিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র যদি নিজেই সহিংসতার প্রতি নীরব সমর্থন দেখায় বা নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একবাক্যে বলেন, এই হামলা কোনো একক সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়; এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে তারা ‘ভয়ঙ্কর’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন—মবের নামে নৈরাজ্যকারীদের দমনে রাষ্ট্র কেন কার্যকর ভূমিকা নিচ্ছে না?
বক্তারা স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। সভা শেষে হোটেলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সেখানে বলা হয়, সাংবাদিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সব পেশাজীবী মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধ ছাড়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়।
সমাপনী বক্তব্যে নোয়াব সভাপতি ও সমকাল প্রকাশক এ কে আজাদ বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, ছায়ানট, উদীচীসহ সব হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি সাংবাদিকদের মতামতের ভিত্তিতে আগামী মাসের মাঝামাঝি একটি বড় আকারের মহাসম্মেলনের ঘোষণাও দেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলীসহ শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের সম্পাদকরা। পাশাপাশি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী আইরিন খান, আইনজীবী সারা হোসেন, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি বক্তব্য দেন। সবাই একসঙ্গে মব সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।