খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর হাটে আর্থিক লেনদেন সহজ ও নিরাপদ করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এলাকার পশুর হাটসংলগ্ন নির্ধারিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা ও অস্থায়ী বুথ ঈদের আগের দিন বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর হাটে নগদ অর্থের ব্যাপক লেনদেনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, পশুর হাটসংলগ্ন নির্ধারিত ব্যাংক শাখা, উপশাখা এবং হাট এলাকায় স্থাপিত অস্থায়ী বুথগুলো সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখতে হবে। এসব বুথ ও শাখার মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতারা কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয়ের অর্থ নিরাপদভাবে জমা, উত্তোলন ও লেনদেন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, খুলনা সিটি করপোরেশন, রাজশাহী সিটি করপোরেশন এবং রংপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট পরিচালিত হবে। এসব হাটে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা, বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীর সমাগম ঘটে থাকে এবং সেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের লেনদেন হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, কোরবানির পশুর হাটে আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঈদের আগে পশুর হাটগুলোতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহন ও লেনদেনের কারণে ছিনতাই, জাল টাকা কিংবা অন্যান্য আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে। এ কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো হলে গ্রাহকরা নিরাপদে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পশুর হাটের কাছাকাছি অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখার পাশাপাশি হাটে স্থাপন করা অস্থায়ী বুথ ব্যবহার করে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা যেন সহজে লেনদেন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের ক্ষেত্রে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছর ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী পশুর হাট বসে এবং সেখানে কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বেচাকেনা চলে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহারও বাড়ছে। তবে এখনও অনেক পশুর হাটে নগদ লেনদেনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ব্যাংকের সরাসরি উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।
ব্যাংক খোলা রাখার এই সিদ্ধান্তের ফলে পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সহজে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ব্যাংকিং সেবার আওতায় বেশি সংখ্যক লেনদেন এলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকিও কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে স্থানীয় প্রশাসন ও হাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ঈদুল আজহার পশুর হাটে আর্থিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।