খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ জুলাই ২০২৫
মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে মুসলিমপ্রধান দেশ ইরাক। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদক সংক্রান্ত মামলায় ২৪৫ জন আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারীর মৃত্যুদণ্ড ও ৯৫৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির বিশেষ আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। খবর দিয়েছে শাফাক নিউজ।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, দেশের বিভিন্ন প্রদেশে পরিচালিত ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। চলতি বছরের (২০২৫) প্রথম তিন মাসেই মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩ হাজার ৬ জনকে। এদের মধ্যে ৯৭৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জব্দ করেছে দুই টনের বেশি মাদক। এর মধ্যে বাগদাদের আল-রুসাফা কেন্দ্রীয় তদন্ত আদালতের অধীন এলাকা থেকেই জব্দ করা হয়েছে দেড় টনের বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ইরাক এখন মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কৃত্রিম মাদক বা সিনথেটিক ড্রাগের বাজার দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকসহ আশপাশের অঞ্চলে ক্যাপটাগন ও মেথঅ্যামফেটামিন জাতীয় মাদকের জব্দকৃত পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। ফলে নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ইরাক সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদক সিন্ডিকেট দমনে শুধু দেশীয়ভাবে অভিযান নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও জোরদার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর তৎপরতা সত্ত্বেও কৃত্রিম মাদকের সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
বর্তমানে ইরাকে বিচার বিভাগ, পুলিশ এবং বিশেষ বাহিনীর যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই মাদকবিরোধী অভিযান।
উল্লেখ্য, ইরাক একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, যেখানে শিয়া মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সুন্নি মুসলমানদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী মাদক গ্রহণ, উৎপাদন, বিক্রি ও পাচার—সবকিছুই হারাম (নিষিদ্ধ)। ধর্মীয় ও সামাজিক এই অবস্থানের কারণে মাদকবিরোধী আইন ও তার প্রয়োগ দেশটিতে অত্যন্ত কঠোর।
খবরওয়ালা/এমএজেড