খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৫
২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ভারত। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে, এবং তাতে ক্রিকেট সম্পর্কও প্রায় শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। তবে ২০১১ বিশ্বকাপের পর, কিছু সময়ের জন্য সম্পর্কের মাঝে সামান্য শিথিলতা দেখা গিয়েছিল। ২০১৩ সালে পাকিস্তান সফর করেছিল ভারত, তবে সেটাই ছিল একমাত্র সুযোগ যখন দুই দেশের ক্রিকেট দল একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল। তারপর থেকে, রাজনৈতিক সম্পর্কের তিক্ততা বাড়ার সাথে সাথে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ক্রিকেট সিরিজের সম্ভাবনা পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে গেছে।
আইসিসি (ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল) টুর্নামেন্টগুলোর ক্ষেত্রে, ভারত ও পাকিস্তান সাধারণত একই গ্রুপে পড়ত, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় একটি আকর্ষণ ছিল। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না হলেও, আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে দুই দলের লড়াই দেখা যেত, এবং এটি এক ধরনের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সর্বশেষ, ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে পাকিস্তান শিরোপা জিতেছিল।
তবে, এখন সেই ঐতিহ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) সম্প্রতি একটি ঘোষণা করেছে, যেখানে তারা জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে আর কখনো পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলবে না ভারত। শুধু তাই নয়, এখন তারা আইসিসির কাছেও আবেদন করতে যাচ্ছে, যেন বিশ্বকাপ বা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে না হয়। বিসিসিআই জানিয়েছে, তারা চায় না যেন কোনোভাবেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজন করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে পর্যটক হত্যার মতো কিছু সাম্প্রতিক ঘটনা, যা ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ এই পরিস্থিতিকে এমনকি ‘যুদ্ধাবস্থা’ বলেও অভিহিত করছেন। রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্কের চরম অবনতির ফলে, সড়ক-বিমান যোগাযোগ বন্ধ, নদীর পানিচুক্তি বাতিল হওয়ার পর এবার ঐতিহাসিক সিমলা চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব ক্রিকেটের মাঠেও পড়েছে। পাকিস্তানের পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ)-এর সম্প্রচারও ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং পিএসএলে কর্মরত ভারতীয়দের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। ফলে, ভারতীয় বোর্ড এখন আইসিসি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) কাছে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে তাদের পক্ষে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা না হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি, এশিয়া কাপেও ভারত-পাকিস্তানকে একে অপরের মুখোমুখি না করা নিয়ে আবেদন জানানো হতে পারে।
বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা এই বিষয়ে জানান, “কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন করবে না। তবে আইসিসি প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের সঙ্গে খেলা হবে কিনা, সেটা পুরোপুরি আইসিসির ওপর নির্ভর করছে। পরিস্থিতি কী তা আইসিসি ভালই জানে।”
এছাড়া, বর্তমানে আইসিসির চেয়ারম্যান জয় শাহ, যিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড যদি আইসিসিকে চিঠি দেয়, তা নিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা অবশ্যই গভীরভাবে ভাববে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই উদ্যোগে, আইসিসির সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের দিকে চোখ থাকবে ক্রিকেট বিশ্ব।
এমন এক সময়ে, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক একটি অভূতপূর্ব কঠিন পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যতেও নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বিসিসিআইয়ের এই পদক্ষেপ ক্রিকেটের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন প্রশ্ন তুলছে, যেখানে শুধুমাত্র খেলা নয়, সম্পর্কের গতি-প্রকৃতি এবং তার প্রভাবকে কেন্দ্র করে চর্চা শুরু হয়েছে।
খবরওয়ালা/এমবি