খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানের করাচি শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) করাচিতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের সামনে এই বিক্ষোভে অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যা স্থানীয় এধি রেসকিউ সার্ভিস নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও উদ্ধারসংস্থার বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন জানিয়েছে, মৃতদেহগুলো করাচির সিভিল হাসপাতাল (সিএইচকে) এ নেওয়া হয়েছে। এধি রেসকিউয়ের একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের অ্যাম্বুলেন্স নিহত এবং আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সিএইচকে পৌঁছে দিয়েছে।” আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাসের প্রবেশদ্বার ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ এবং টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এসময় কয়েকজন আহত হন এবং দূতাবাসের কিছু অংশে আগুন ধরানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ভেরিফাইড ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা দূতাবাসের জানালা ভাঙছে এবং মার্কিন পতাকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী এই বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টারত, তবে স্থানীয় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত আছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও গুরুত্ব পাচ্ছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে, এই হামলায় মারা গেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। খামেনির মৃত্যুতে ইরানি সরকার সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।
নিচের টেবিলে করাচি বিক্ষোভে আহত ও নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য উপস্থাপন করা হলোঃ
| শ্রেণি | সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিহত | ৬ | সিভিল হাসপাতাল (CHK) এ নেয়া হয়েছে |
| গুরুতর আহত | ৫ | লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাসের ফলে |
| সামান্য আহত | ২০+ | দূতাবাসের প্রবেশদ্বার ভাঙার সময় |
| উদ্ধার অ্যাম্বুলেন্স | ৪ | নিহত ও আহতদের হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে |
বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রভাব এবং খামেনির মৃত্যু পাকিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বদ্ধপরিকর, তবে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বিক্ষোভ ইরানের রাজনৈতিক সংকট এবং মার্কিন–ইসরাইলি হামলার পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।