খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৬ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তানের পাহাড়ঘেরা কোহিস্তান অঞ্চলের এক গলতে থাকা হিমবাহের নিচ থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ। দীর্ঘ সময় বরফের নিচে থাকার পরও দেহ ও পোশাকের অবিকৃত অবস্থা দেখে বিস্মিত স্থানীয়রা ও উদ্ধারকারী রাখাল।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ঘটনাটি ঘটেছে কোহিস্তানের দুর্গম ‘লেডি ভ্যালি’ এলাকায়। সম্প্রতি এক রাখাল গলতে থাকা হিমবাহের মধ্যে হঠাৎই দেখতে পান একটি মানবদেহ, যা ছিল সম্পূর্ণ অক্ষত। আশ্চর্যের বিষয়, মরদেহের পরনের জামাকাপড়েও কোনো ছেঁড়ার চিহ্ন ছিল না।
মরদেহের পাশে পাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম নাসিরউদ্দিন। পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, তিনি ১৯৯৭ সালের জুন মাসে নিখোঁজ হয়েছিলেন এই অঞ্চল থেকেই। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র বরফঝড়ের সময় হিমবাহের ফাটলে পড়ে যান তিনি।
নাসিরউদ্দিনের ভাই কাছিরউদ্দিন জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে দুজনে ঘোড়ায় চড়ে বাড়ি ছাড়েন। ওই দিন সকালে তাঁরা লেডি ভ্যালিতে পৌঁছান। দুপুরের দিকে নাসিরউদ্দিন একটি গুহায় ঢোকার পর আর ফিরে আসেননি। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি।
মরদেহটি প্রথম দেখতে পান স্থানীয় রাখাল ওমর খান। তিনি বলেন, ‘আমি যা দেখেছি, তা চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারিনি। দেহটা পুরো অক্ষত। এমনকি তার জামাকাপড়েও একটুও ছেঁড়ার চিহ্ন ছিল না।’
এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এসে পরিবারের সঙ্গে পুরোনো ঘটনার স্মৃতি ভাগাভাগি করছেন। পুলিশ জানায়, নাসিরউদ্দিনের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর হলেও পরিবারের জন্য এটি এক ধরনের মানসিক শান্তির সুযোগ করে দিয়েছে।
হিমবাহে মরদেহ দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইসলামাবাদের কমস্যাটস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ বিলাল। তিনি বলেন,‘যখন কোনো দেহ হিমবাহে পড়ে, তখন প্রচণ্ড ঠান্ডায় তা সঙ্গে সঙ্গে জমে যায়। এতে পচন রোধ হয়। বরফের ভেতরে আর্দ্রতা ও অক্সিজেনের অভাব থাকায় দেহটি এক প্রকার মমির মতো হয়ে যায়।’
বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ওই অঞ্চলে তুষারপাত কমে গেছে, ফলে সূর্যের আলো সরাসরি বরফ গলিয়ে দিচ্ছে। এই দ্রুত গলনই সম্ভবত নাসিরউদ্দিনের দেহকে প্রকাশ করেছে হিমবাহের নিচ থেকে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, মরদেহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঘিরে তদন্ত এখনো চলছে।
সূত্র: বিবিসি
খবরওয়ালা/এসআই