খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১২ অক্টোবর ২০২৫
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘাত দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি, উভয় দেশের সেনারা একে অপরের সীমান্তবর্তী চৌকিতে হামলা চালানোর এবং সেনা হত্যা করার দাবি করেছে।
আফগানিস্তানের তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, শনিবার (১১ অক্টোবর) রাতে তাদের ‘প্রতিশোধমূলক’ হামলায় অন্তত ৫৮ পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন, তবে পাল্টা হামলায় ২০০ তালিবান ও তাদের সহযোগী সন্ত্রাসীর মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করেছে।
কেন সংঘাত হলো?
গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আফগান রাজধানী কাবুলে এবং পাকতিয়া প্রদেশের সীমান্তবর্তী বাজারে বিস্ফোরণ ঘটে। তালেবান সরকার পাকিস্তানকে দায়ী করে, যে পাকিস্তান আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান হামলার লক্ষ্য ছিল তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) নেতা নুর ওয়ালি মেহসুদ। ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হওয়া শুরু হয়েছে, কারণ পাকিস্তান অভিযোগ করছে, তালেবান প্রশাসন টিটিপিকে আশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রবণতা বেড়েছে।
উভয়পক্ষের অবস্থান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি আফগান বাহিনীর হামলাকে ‘অযৌক্তিক’ ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, পাকিস্তানের বিমান হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া হয়েছে এবং যদি পাকিস্তান পুনরায় সীমান্ত লঙ্ঘন করে, তবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ইরান, কাতার ও সৌদি আরব উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয়কে কূটনৈতিক পন্থায় সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। ভারতের দৃষ্টি এখনও সীমান্ত উত্তেজনার দিকে সরাসরি নেই, তবে ইসলামাবাদ তালেবানের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ককে সন্দেহের চোখে দেখছে।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে কি?
পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আসিফ দুররানি মনে করেন, সংঘাত গুরুতর আকার নেবে এমন সম্ভাবনা কম। পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে সমস্যার মূল কেন্দ্র টিটিপি, এবং আফগান সরকার তাদের উপস্থিতি স্বীকার না করায় সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় থাকবে। কূটনীতি এবং সংলাপ ছাড়া এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হওয়া কঠিন।
খবরওয়ালা/এন