খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাঞ্জাবের জলন্ধরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মডেল টাউন এলাকায় অবস্থিত একটি গুরুদ্বারের বাইরে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা লাকি ওবেরয়কে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, লাকি ওবেরয় গুরুদ্বারের বাইরে নিজের গাড়ি পার্ক করছিলেন, ঠিক তখনই দুই চাকার যানে আসা অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীরা তার উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হামলায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
লাকি ওবেরয়ের রাজনৈতিক পরিবারটি আগেও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার স্ত্রী পূর্বে আম আদমি পার্টির প্রার্থী হিসেবে পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এ হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
রাজ্যের বিরোধী দলগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযোগ করেছে যে, পাঞ্জাব এখন গ্যাংস্টারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা প্রতাপ সিং বাজওয়া বলেন, “রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?”
অন্যদিকে বিজেপি ও শিরোমণি আকালি দলও পাঞ্জাব সরকারের ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। বিজেপি জাতীয় মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা এবং আকালি দল নেতা বিক্রম সিং মজিথিয়া এ হত্যাকাণ্ডকে রাজ্যের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অপরাধী দমনের ব্যর্থতার ফল বলে অভিহিত করেছেন।
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | লাকি ওবেরয় |
| রাজনৈতিক দল | আম আদমি পার্টি (আপ) |
| হত্যার সময় ও তারিখ | ৬ জানুয়ারি, সকাল ৯টা |
| হত্যাস্থল | মডেল টাউন, জলন্ধর, পাঞ্জাব |
| হামলার ধরন | প্রকাশ্য দিবালোকে, দুই চাকার যান থেকে গুলি |
| প্রাথমিক আহত সংখ্যা | ৫টি গুলি লেগেছে |
| হাসপাতালে মৃত্যু | চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত |
| পুলিশি পদক্ষেপ | সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, তল্লাশি শুরু |
এখন পর্যন্ত কোনো গ্রেফতার বা হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত হয়নি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ প্রধানের ব্যর্থতার কারণে দিনদুপুরে এমন হত্যাকাণ্ডের সাহস পাচ্ছে অপরাধীরা। স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ এলাকার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও চেকপোস্টে প্রহরা বৃদ্ধি করেছে।
এই হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং নির্বাচনী মরশুমের আগে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নকে কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।