খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
পাবনায় শশুরবাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া জাহিদ হাসান (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ দুইদিন পর বড়াল নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাজার এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় তার দেহ পাওয়া যায়।
মৃত জাহিদ চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া গ্রামের কাজেম প্রামাণিকের ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি কয়েকদিন আগে তার শশুরবাড়ি ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা গ্রামে গিয়েছিলেন।
পুলিশ ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মার্চ সন্ধ্যা সাতটার দিকে শশুরবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা এবং প্রতিবেশীরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
সোমবার দুপুরে সিলন্দা বাজার এলাকায় বড়াল নদীতে ভাসমান এক যুবকের মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পরিবার সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ সনাক্ত করেন।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। নগরবাড়ি নৌ পুলিশ বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুসন্ধান করবে।”
নগরবাড়ি নৌ পুলিশের ইনচার্জ ফকরুল ইসলাম জানান, “মরদেহ উদ্ধার করে সুরতাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবার লিখিত অভিযোগ দিচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত ব্যক্তির নাম | জাহিদ হাসান, ৩৫ বছর |
| পিতার নাম ও ঠিকানা | কাজেম প্রামাণিক, মূলগ্রাম ইউনিয়ন, অমৃতকুন্ডা হাটপাড়া, চাটমোহর, পাবনা |
| নিখোঁজ হওয়ার তারিখ | ২০ মার্চ ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা |
| উদ্ধার তারিখ ও সময় | ২৩ মার্চ ২০২৬, দুপুর ১টা |
| উদ্ধার স্থান | বড়াল নদী, সিলন্দা বাজার, সাঁথিয়া, পাবনা |
| পরিবারের বিবরণ | মানসিক ভারসাম্যহীন, শশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন |
| আইনগত প্রক্রিয়া | অপমৃত্যু মামলা দায়ের, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, তদন্ত চলমান |
এই মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের জীবনের সংবেদনশীলতা এবং মানসিক সমস্যার গুরুত্বের ওপর পুনরায় মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিদের জন্য পরিবার ও সমাজের যত্ন ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
স্থানীয়রা এবং পুলিশকে সময়মতো খবর দেয়ার ফলে মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পরিবারের সতর্কতা, নদী বা ছাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, এবং মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে এবং প্রাসঙ্গিক আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।