খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে কার্তিক ১৪৩২ | ১২ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর পুরান ঢাকায় তারিক সাইফ মামুন হত্যা মামলায় জড়িত দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার দুজন সীমান্ত পেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। এদের মধ্যে পেশাদার শুটার কুত্তা ফারুক ও রবিনের পাশাপাশি রুবেল নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যিনি ঘটনাস্থলে সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুইজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, সোমবার (১০ নভেম্বর) নরসিংদীর ইটাখোলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে দলটি তাদের সিলেটের মৌলভীবাজার এলাকা থেকে অনুসরণ করছিল। পরে তাদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। ঢাকার রায়েরবাজার এলাকা থেকে দুটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে সোমবার সকালে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ এলাকার সামনে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তারিক সাইফ মামুনকে। স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, পুরোনো এক মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে আফতাবনগরের বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে মামুন একা হাঁটতে হাঁটতে মূল সড়কের দিকে যাচ্ছিলেন। কয়েক সেকেন্ড পর তাকে দৌড়ে ফিরে আসতে দেখা যায়, এবং পেছন থেকে দুই ব্যক্তি গুলি চালাতে চালাতে এগিয়ে আসেন। তারা মামুনকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যান।
উল্লেখ্য, নিহত মামুন এক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। তারা দুজন মিলে গড়ে তুলেছিলেন কুখ্যাত ‘ইমন-মামুন’ গ্রুপ, যারা একসময় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও তেজগাঁও এলাকায় ত্রাস ছড়িয়েছিল। মামুন চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন এবং দীর্ঘ ২০ বছর কারাভোগের পর ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পান।
পুলিশের তথ্যমতে, ইমন ও মামুনের মধ্যে অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই মামুনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে গোয়েন্দা পুলিশ।