খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা গোলকিপার রুপনা চাকমা আবারো নিজেকে ইতিহাসের পাতায় লিখলেন। একজন ফুটবলারের জন্য পুরো লিগ অপরাজিত থাকা গর্বের বিষয়, কিন্তু একজন গোলকিপারের জন্য পুরো লিগে কোনো গোল না খাওয়া বা ‘ক্লিন শিট’ রাখা স্বপ্নের মতো। সম্প্রতি সেই স্বপ্ন সত্যি করেছেন রুপনা।
কমলাপুর স্টেডিয়ামে শেষ হওয়া জাতীয় নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী স্টারসের হয়ে ৯টি ম্যাচ খেলে কোনো গোল হজম করেননি তিনি। এই অসাধারণ কীর্তির স্বীকৃতি হিসেবে রুপনা লিগের সেরা গোলকিপার নির্বাচিত হয়েছেন।
রুপনা বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরেই প্রথম নামের গোলকিপার। ২০২২ ও ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি সেরা গোলকিপার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। নিম্নে রুপনার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত তালিকা:
| বছর | টুর্নামেন্ট | ম্যাচ সংখ্যা | খাওয়া গোল | সেরা গোলকিপার পুরস্কার |
|---|---|---|---|---|
| ২০২২ | সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ | ৫ | ১ | হ্যাঁ |
| ২০২৪ | সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ | ৫ | ৪ | হ্যাঁ |
| ২০২৬ | জাতীয় নারী লিগ | ৯ | ০ | হ্যাঁ |
রাজশাহী স্টারস লিগে মোট ১০ ম্যাচে ৯০ গোল করে বিজয়ী হলেও রুপনাকে একটি ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয়। সেই ম্যাচে জাতীয় দলের দ্বিতীয় গোলকিপার স্বর্না রানী মন্ডল গোলরক্ষক হিসেবে খেলেন। এছাড়া দু-তিনটি ম্যাচে শেষ পর্যায়ে তাকে নামানো হয়, যাতে দলের অন্যান্য খেলোয়াড় সুযোগ পান।
রুপনা নিজের অর্জনকে নিজের সঙ্গে লড়াই হিসেবে দেখেন। বিজয় উদযাপনকালে তিনি বলেন, “আগের লিগগুলোতে বসুন্ধরা কিংস ও নাসরিন স্পোর্টিংয়ে খেলেছি। এক লিগে একটি গোল হজম করেছি। এবার কোনো গোল খাইনি। লিগটা অবশ্য কঠিন ছিল, কিন্তু আমি দৃঢ় সংকল্প করেছি কোনো গোল খাওয়ার নয়।”
রাজশাহী দলের রক্ষণভাগ শক্তিশালী ছিল। শিউলি আজিম, ঋতুপর্ণা, আলপি আক্তারের পাশাপাশি দুজন নেপালি খেলোয়াড়ও ছিলেন তার সতীর্থ। রুপনার মতে, ফরাশগঞ্জ ও সেনাবাহিনী সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ফরাশগঞ্জের বিরুদ্ধে রাজশাহী ১-০ ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জয়ী হয়।
রাঙামাটির কুতুকছড়ির সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া রুপনার জীবন সংগ্রামের উদাহরণ হয়ে আছে। জন্মের আগে তার কৃষক বাবা গাজামনি চাকমা মারা যান। চার ভাই–বোনের মধ্যে সবার ছোট রুপনা ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একটি বাড়িও পেয়েছেন।
ফুটবলের হাতেখড়ি গ্রামীণ স্কুলে শান্তিমনি চাকমা কোচের অধীনে। শুরুতে স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও কোচের পরামর্শে গোলকিপার হয়েছেন। রুপনার মতে, “গোলকিপিং বড় দায়িত্বের জায়গা। এক ভুল পুরো দলকে দিশাহীন করতে পারে, কিন্তু এক সেভ দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।”
গত বছর তিনি ভুটানের লিগে ট্রান্সপোর্ট ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন। সেখানে ও স্থানীয় খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়েছে। এখন রুপনার লক্ষ্য আরও বড় – এশিয়ার বড় কোনো লিগে খেলা।
এবারের জাতীয় দলের লক্ষ্যও চ্যালেঞ্জিং। প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপে খেলতে বাংলাদেশ নারী দল ২০ বা ২১ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়া যাবে। রুপনা বললেন, “আমি প্রস্তুত। চেষ্টা করব নিজের সেরাটা দিতে।”