খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে চৈত্র ১৪৩২ | ৪ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর থাকলেও বাস্তবে অনেক প্রবাসী এবং তাদের পরিবার কাঙ্ক্ষিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাগজে বীমার প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রক্রিয়ার জটিলতা, তথ্যের অভাব ও দালালচক্রের প্রভাবে প্রকৃত সুবিধা কম মানুষ পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে।
২০১৯ সালে বিদেশগামী কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক বীমা প্রবর্তিত হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে নতুন নীতিমালায় বীমার সর্বোচ্চ পরিমাণ ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রবাসীরা বিদেশ যাওয়ার সময় ১,০০০ টাকা প্রিমিয়াম দিয়ে এই বীমা কার্যকর করেন, যা পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য থাকে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড প্রিমিয়াম সংগ্রহ ও জীবন বীমা করপোরেশন দাবি পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে।
নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকালে বা দেশে ফেরার সময় মৃত্যু হলে মনোনীত ব্যক্তি ১০ লাখ টাকা প্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনায় দুই চোখ, দুই হাত বা দুই পা হারানোসহ স্থায়ী ও সম্পূর্ণ অক্ষমতার ক্ষেত্রেও একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। আংশিক অক্ষমতার ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ নির্ধারিত। এছাড়া বৈধ কারণে চাকরি হারালে বিদেশে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।
| সুবিধার ধরন | বীমার পরিমাণ | শর্তাবলী |
|---|---|---|
| মৃত্যু | ১০,০০,০০০ টাকা | নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যু |
| স্থায়ী সম্পূর্ণ অক্ষমতা | ১০,০০,০০০ টাকা | দুই চোখ, দুই হাত বা দুই পা হারানো |
| আংশিক অক্ষমতা | ১,০০,০০০ – ৫,০০,০০০ টাকা | ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী |
| চাকরি হারানো | সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা | বৈধ কারণে, বিদেশে যাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে |
বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আত্মহত্যার কারণে মৃত্যু হলে বীমা দাবি বাতিল হয়। গুরুতর অসুস্থতার কারণে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীও অনেক সময় সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। পূর্বে বিদ্যমান রোগ থাকলেও বীমা কার্যকর হয় না।
তথ্যসংক্রান্ত অভাবও বড় সমস্যা। অনেক প্রবাসী জানেন না যে তাদের নামে বাধ্যতামূলক বীমা রয়েছে বা কীভাবে দাবি করতে হয়। ফলে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ কঠিন হয়ে যায়, বিশেষ করে বিদেশ থেকে ডকুমেন্ট আনা জটিল।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দালালচক্র সক্রিয়। তারা বীমার টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে উচ্চ কমিশন দাবি করে, যা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের জন্য আরও ক্ষতি সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীদের জন্য এই বীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা বৃদ্ধি, দাবি প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। সরকার ও প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই বীমা কার্যকর ও প্রকৃত সুবিধা পৌঁছাতে পারে।
সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে প্রবাসী কর্মীরা বীমার প্রতিশ্রুত সুবিধা পাবে এবং নীতিমালা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ থেকে বাস্তব সহায়তায় রূপান্তরিত হবে।